শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে ওসমানী হাসপাতালে ভাঙচুর ও সংঘর্ষ

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে ওসমানী হাসপাতালে ভাঙচুর ও সংঘর্ষ
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজনদের দ্বারা চিকিৎসকদের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্তে অচল হয়ে পড়েছে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম।

 

শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে, যা পরবর্তীতে বড় আকারের সংঘর্ষে রূপ নেয়। হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। গভীর রাতে এক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার স্বজনরা কর্তব্যরত নার্স ও শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রথমে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

 

একপর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হাতাহাতি ও ভাঙচুরে গড়ায়। অভিযোগ রয়েছে, রোগীর ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতর ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হন। এ সময় একজন নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং ওয়ার্ডে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারী মারধরের শিকার হন। চিকিৎসক ও কর্মীদের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের অন্যান্য শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং হামলাকারীদের প্রতিরোধ করেন।

 

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকদের বাধার মুখে এক নারীসহ তিনজন হামলাকারীকে আটক করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উত্তেজিত চিকিৎসক ও কর্মচারীদের হাতে আটককৃত রোগীর স্বজনরা গণধোলাইয়ের শিকার হন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং গভীর রাতে ওই তিনজনকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে যান।

 

আটকের পর তাদের পুলিশি পাহারায় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে এবং কর্মস্থলে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

তিনি বলেন, "হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও চিকিৎসকদের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।" অন্যদিকে, সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, হাসপাতালের উদ্ভুত পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

তিনি জানান, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং হাসপাতাল চত্বরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালের সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, এবং দ্রুত সমাধানের প্রতীক্ষায় আছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।