তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিডার বা সাধারণ ব্যবসায়ীরা, যারা সরকারের কোষাগারে সম্পূর্ণ অর্থ জমা দিয়েও পণ্য বুঝে পাচ্ছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ই-অকশনের মাধ্যমে ১ কোটি ৬ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকায় ২৫ হাজার ৬২৬ কেজি ইনডিগো রঙের ফেব্রিক্সসহ একটি কনটেইনার বিক্রি হয়।
ক্রেতা পে-অর্ডার ও এ-চালানের মাধ্যমে শুল্কসহ যাবতীয় অর্থ পরিশোধ করে ‘ডেলিভারি অর্ডার’ (DO) সংগ্রহ করেন। কিন্তু পণ্য খালাস করতে গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সেই কনটেইনারের কোনো অস্তিত্বই ইয়ার্ডে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
কাস্টমস আইন-২০২৩ অনুযায়ী, বন্দরের ভেতরে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের হেফাজতকারী এবং ওয়্যারহাউজ রক্ষক হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দায়বদ্ধ। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বন্দরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে, পণ্য সরবরাহ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিডারের পরিশোধিত অর্থ ফেরত দেওয়া এবং সরকারের রাজস্ব ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা বন্দরের দায়িত্ব।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২০২৫ সালের আগস্টেও প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের কাপড়ভর্তি আরও দুটি কনটেইনার উধাও হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। শাহ আমানত ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেও ১০ মাস ধরে তাদের পণ্য বুঝে পায়নি।
সুরক্ষিত এই রাষ্ট্রীয় স্থাপনার ভেতর থেকে পণ্য উধাওয়ের ঘটনাটি এখন ডিজিটাল জালিয়াতি বা পরিকল্পিত চুরির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় গত ২৮ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বন্দরে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে।
নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্য উধাওয়ের বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ জানান, বিডার সব শুল্ক পরিশোধের পর পণ্য দিতে না পারায় বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
প্রতিবেদন পেলে নির্ধারণ করা হবে গাফিলতি কার ছিল এবং সেই অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।” রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় বিক্রি হওয়া পণ্য যদি রাষ্ট্রই ডেলিভারি দিতে না পারে, তবে তা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে। এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের চরম ব্যর্থতা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে, কোটি কোটি টাকা মাসের পর মাস আটকে থাকায় তাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গভীর আস্থার সংকট তৈরি করবে।