চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন জানান, বুধবার সকাল ৮টা থেকে এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত এই সমুদ্রবন্দরে চলমান অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আন্দোলনকারী নেতাদের অভিযোগ, নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান না করে উল্টো শ্রমিকদের হুমকি দিচ্ছেন। ইব্রাহিম খোকন বলেন, “উপদেষ্টা আমাদের ওপর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও শাস্তির ভয় দেখাচ্ছেন। পাশাপাশি আন্দোলনরত কর্মচারীদের অন্যায়ভাবে বদলি করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে আমরা পিছু হটব না; দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগামীকাল থেকে কোনো কাজ হবে না।” শ্রমিকদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে-এনসিটি জেটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়া, বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং আন্দোলন কেন্দ্র করে দেওয়া সকল বদলির আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ফলে বন্দরের পণ্য ওঠানামা ও জাহাজ আনা-নেওয়ার কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। এনসিটি, সিসিটি এবং জেনারেল কার্গো বার্থসহ সব টার্মিনালেই অপারেশনাল কাজ বন্ধ থাকায় জেটিতে অবস্থানরত জাহাজগুলো অলস বসে আছে।
শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) নেতারা জানান, সোমবার ঢাকায় একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের খবর আসার পর শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। তাঁদের অভিযোগ, জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তিতে সই নেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এদিকে টানা চার দিনের কর্মবিরতিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন দেশের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। বিজিএমইএ-র সহসভাপতি সেলিমুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বন্দরে এই স্থবিরতার কারণে পোশাক খাতের শিপমেন্ট শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
ব্যবসায়ী মহল থেকে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের দাবি জানানো হয়েছে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এখনও পর্যন্ত শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সংলাপে না বসায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে।