শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট ও পুরোনো রাজনীতির অবসান, রাজশাহীর জনসভায় জামায়াত আমিরের দূরদর্শী বার্তা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট ও পুরোনো রাজনীতির অবসান, রাজশাহীর জনসভায় জামায়াত আমিরের দূরদর্শী বার্তা
ছবি: File Photo

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির প্রস্তাবিত গণভোটকে দেশের রাজনীতির পটপরিবর্তনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় প্রদানের অর্থ হলো একটি নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে যাত্রা শুরু করা।

 

তিনি এই ভোটকে বিগত দিনের লুটপাট, দমন-পীড়ন এবং বিভাজনের রাজনীতির প্রতি জনগণের চূড়ান্ত ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শনের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বিগত কয়েক দশকের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দেশে গত ৫৪ বছরে অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়ন হলেও সমান্তরালভাবে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।

 

তিনি অভিযোগ করেন যে, ব্যাংক ডাকাতি, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। জামায়াত আমিরের মতে, প্রকৃত উন্নয়ন কেবল দালানকোঠা নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ১৮ কোটি মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, শিশুদের পুষ্টি ও সুশিক্ষা প্রদান এবং যুবসমাজের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান তৈরি করাই হলো প্রকৃত অগ্রগতি।

 

তিনি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, আল্লাহর দেওয়া জীবনবিধানই মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম এবং এটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য সমভাবে কার্যকর। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন যে, ইনসাফ কায়েমের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব যেখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিটি সদস্য সমান নিরাপত্তা ও মর্যাদা ভোগ করবে।

 

১১ দলের সমন্বয়ে গঠিত জোটের মূল লক্ষ্য ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে হিংসা ও বিদ্বেষের রাজনীতি নির্মূল করে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কোনো স্থান থাকবে না।

 

পারিবারিক ও বংশতান্ত্রিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জামায়াত আমির। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশে আর কোনো আধিপত্যবাদী রাজনীতি বরদাশত করা হবে না।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিবেশীসহ বিশ্বের সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। রাজশাহী সফর শেষে তিনি নাটোরের জনসভায় যোগদানের উদ্দেশে রওনা হন। সমাবেশে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যারা ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন।