তবে জনতাকে সাথে নিয়ে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমেই এই বুলেট বিপ্লবকে প্রতিরোধ করা হবে।" খুলনা-৫ আসনের ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের লগি-বৈঠার তাণ্ডব থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে ওসমান হাদীর শাহাদাত-এই দীর্ঘ লড়াই ও হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই নির্বাচনের পথ সুগম হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশকে একটি উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত করেছিলেন এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের জন্য ‘আয়নাঘর’ তৈরি করেছিলেন। এই দীর্ঘ বঞ্চনার পর অর্জিত ভোটাধিকার কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে দিনের ভোট রাতে করা হয়েছিল। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "কোনো অবৈধ টাকার প্রলোভনে পা দেবেন না।
যদি আবারও ব্যালট বাক্স ভরার চেষ্টা করা হয়, তবে জনগণের তীব্র বিদ্রোহ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।" প্রশাসনকে জনতার কাতারে এসে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনারও পরামর্শ দেন তিনি। গণমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু মিডিয়া মাফিয়া নির্দিষ্ট দলের দালালি করছে।
তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণমাধ্যম সত্য আড়াল করলে জনগণ নিজেই বিকল্প মিডিয়া হয়ে ওঠে। ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটের আগে সামান্য টাকা নিয়ে পাঁচ বছরের জন্য গোলামি না করে, পবিত্র আমানত হিসেবে ভোট দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের সেবা নিশ্চিত করুন। পরিশেষে, বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের স্বার্থে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।