শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা বাতিলের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা বাতিলের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের ফলে দেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার খ্যাত এই বন্দরের যাবতীয় অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

 

সাধারণ শ্রমিক ও কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই পরিষদ তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, রোববার সকাল আটটা থেকে বন্দরের জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল এবং প্রশাসনিক ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পণ্য খালাস ও পরিবহনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

 

এমনকি বহির্নোঙরে থাকা জাহাজগুলো থেকেও পণ্য স্থানান্তর প্রক্রিয়া থমকে গেছে। বন্দর এলাকার প্রতিটি প্রবেশপথে যানবাহন চলাচল নেই বললেই চলে, যার ফলে চার নম্বর গেটসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

 

পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিকদের সাথে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানালেও আন্দোলনকারীরা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের মূল দাবি এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করা।

 

এছাড়াও বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের প্রত্যাহার এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া যাবতীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন অভিযোগ করেছেন যে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা দিতে প্রশাসন ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং ইতিমধ্যে তাদের দুজন শ্রমিক নেতাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

 

তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দমন-পীড়নের মাধ্যমে এই আন্দোলন দমানো সম্ভব নয় এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না। উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে দফায় দফায় কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা।

 

সরকারের নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসে গত শুক্র ও শনিবার আন্দোলন স্থগিত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান সমাধান না আসায় তারা এই কঠোর কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। এই অচলাবস্থার কারণে বন্দরে অবস্থানরত জাহাজগুলোর জট বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও সংকট নিরসনে এখনো কোনো কার্যকর সমঝোতার পথ উন্মোচিত হয়নি।