রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আসন্ন রমজান মাস এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে বন্দরের অচলাবস্থা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সামনেই পবিত্র রমজান মাস।
অথচ বন্দরের বহির্নোঙরে ছোলা, ডাল, ভোজ্যতেলসহ বিপুল পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী জাহাজ ভাসছে। একটি বিশেষ মহল অযৌক্তিক দাবিতে পণ্য খালাসে বাধা সৃষ্টি করছে। সরকার এতদিন নমনীয় থাকলেও, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এখন ‘হার্ডলাইন’ বা কঠোর নীতি গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি করে কোনো দাবি আদায় করা যাবে না। ইতিমধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং বন্দর অচল করার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বাকিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।”
বন্দরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে নৌ উপদেষ্টা বলেন, বন্দরের একটি ইনষ্টিটিউটের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইচ্ছাকৃতভাবে গণ্ডগোল পাকানো হচ্ছে, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে কথা বলেছেন, যাতে সেখানকার নির্বাচন সুষ্ঠু হয় এবং জাতীয় নির্বাচনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার নির্বাচন মনিটরিং করছে না, তবে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে এবং এর পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আন্দোলনকারীদের দাবিগুলোকে ‘অযৌক্তিক ও তুচ্ছ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে ‘অমুককে সরাও, তমুককে বসাও’ বা ক্ষতিপূরণের মতো দাবি তুলে বন্দর অচল করে রাখা রাষ্ট্রদ্রোহীতার শামিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের (DP World) সঙ্গে চুক্তির বিষয়েও সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলমান এবং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। প্রতিষ্ঠানটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়ে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার জন্য আরও সময় চেয়েছে।
সরকারও তাড়াহুড়ো না করে স্বচ্ছতার সঙ্গে এগুতে চায়। প্রয়োজনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পরেও এই নেগোসিয়েশন বা সমঝোতা আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। সরকারের এই কঠোর বার্তা চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে এবং রমজানের আগে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে যাতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন থাকে।