শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম-১৩, নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চুরি

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০১:১১ পিএম

চট্টগ্রাম-১৩, নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চুরি
ছবি: Collected

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৩ আসনে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে আনোয়ারা উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা চুরির নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় ভোটার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

 

দুর্বৃত্তরা মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতের আঁধারে বৈরাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের নজরদারির জন্য স্থাপিত ক্যামেরাগুলো সুকৌশলে সরিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনা নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখা নিয়ে প্রশাসনের সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা ভোটকেন্দ্র প্রাঙ্গণে গিয়ে সিসি ক্যামেরাগুলো যথাস্থানে দেখতে না পেয়ে হতবাক হন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, রাতের কোনো এক সময়ে পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা ক্যামেরাগুলো খুলে নিয়ে গেছে।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি বা ভোটকেন্দ্রে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের অসৎ উদ্দেশ্যেই এই কাজ করেছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, সিসি ক্যামেরা সরানোর মাধ্যমে দুর্বৃত্তরা কেন্দ্রটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বা অনিয়মের পথ সুগম করার চেষ্টা করছে।

 

এই ঘটনার পর স্থানীয় ভোটাররা প্রশাসনের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, নির্বাচনের দিন এবং তার আগের সময়টুকুতে ভোটকেন্দ্র ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, নতুন করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে।

 

ভোটাররা আশঙ্কা করছেন, এখনই যদি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে ভোটের দিন বড় ধরনের সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

 

ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে এবং কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করতে নিবিড় তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যে, তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-১৩ আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মাহমুদুল হাসানের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

 

এছাড়াও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মোহাম্মদ এমরান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম শাহজাহান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মু. রেজাউল মোস্তফা, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ ইমরান এবং জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরীসহ একাধিক প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।