মূলত এই আসনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতীক ‘ধানের শীষ’ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ‘ফুটবল’ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও কেন্দ্রে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ভোটের দিন সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকার প্রত্যাশা থাকলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই দুই উপজেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় সকাল ১০টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রের প্রবেশদ্বারে। সে সময় ভোটারদের দীর্ঘ সারি এবং উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। হঠাৎ করেই ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী-সমর্থক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ফুটবল প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
মুহূর্তের মধ্যেই সেই বাকবিতণ্ডা শারীরিক সংঘাত ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকরা একে অপরের দিকে তেড়ে যায় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ভোটকেন্দ্রের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এমন সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাৎক্ষণিক ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।
অনেকেই নিরাপত্তার শঙ্কায় ভোটকেন্দ্রের লাইন থেকে সরে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। পুঠিয়ার এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রায় একই সময়ে একই আসনের আওতাধীন দুর্গাপুর উপজেলাতেও অনুরূপ সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। সেখানেও বিবদমান এই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, দুর্গাপুরেও ভোটকেন্দ্রে আধিপত্য বজায় রাখা এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থেকেই এই সংঘর্ষের উৎপত্তি। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে, তবুও পরপর দুটি ঘটনায় পুরো নির্বাচনী এলাকায় এক ধরণের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা এবং স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, উৎসবমুখর ভোটগ্রহণের দিনে এমন সহিংসতা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের এমন অসহিষ্ণু আচরণ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সাধারণ ভোটাররা আশা প্রকাশ করছেন, প্রশাসন কঠোর হস্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে এবং দিনের বাকি সময়টুকু তারা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে সকালের এই সংঘর্ষের ঘটনা নারী ও বয়স্ক ভোটারদের উপস্থিতিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।