শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় ভোটকেন্দ্রের সামনে উত্তেজনায় বিএনপি নেতার মৃত্যু

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

খুলনায় ভোটকেন্দ্রের সামনে উত্তেজনায় বিএনপি নেতার মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা সদরের আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের সামনে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও হট্টগোলের মধ্যে মহিবুজ্জামান কচি নামের এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে ঘটা এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

নিহত মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন এবং নগরীর হাজী মহসিন রোডের বাসিন্দা। নির্বাচনের শুরুতেই এমন প্রাণহানির ঘটনায় খুলনার বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা একাডেমিক ভবন কেন্দ্রের অদূরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, কেন্দ্রের সামনে আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং জামায়াত সমর্থিত কর্মীরা প্রচারণায় অংশ নিচ্ছিলেন।

 

এ সময় বাধা দিতে গেলে অধ্যক্ষের ধাক্কায় মহিবুজ্জামান কচি একটি গাছের সঙ্গে মাথায় আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়। খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক শামসুজ্জামান চঞ্চল ও সদর থানা বিএনপির নেতারা এই ঘটনার জন্য সরাসরি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও তাঁর সহযোগীদের দায়ী করেছেন এবং অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

 

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তিনি কেন্দ্রের সামনে কিছু নারী ভোটারকে বাধার মুখে পড়তে দেখেন এবং তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করেন। কাউকে ধাক্কা দেওয়া বা আঘাত করার বিষয়টি তিনি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।

 

এ বিষয়ে খুলনা-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে তিনি দাবি করেন, এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অসুস্থতাজনিত কারণে বা হার্ট অ্যাটাকে তাঁর মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

 

তবে তিনি পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানিয়েছেন, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা গেলেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার কোনো দৃশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

এদিকে খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জামায়াতকে তাদের কর্মীদের আচরণ সংযত করার পরামর্শ দিয়েছেন। নির্বাচনী সহিংসতা রোধে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।