শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার কথিত অভিযোগে শিক্ষককে মারধর

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার কথিত অভিযোগে শিক্ষককে মারধর
ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলায় এক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার কথিত অভিযোগ তুলে প্রকাশ্য দিবালোকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার হারতা বাজারে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।

 

মারধরের শিকার ওই শিক্ষকের নাম উত্তম কুমার, যিনি স্থানীয় হারতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৩টার দিকে শিক্ষক উত্তম কুমার হারতা বাজারে অবস্থান করছিলেন।

 

এ সময় দক্ষিণ হারতা গ্রামের হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছেলে বাদশা তালুকদার, মহিউদ্দিন তালুকদারের ছেলে রিয়ান তালুকদার এবং মো. আইয়ুব আলীসহ একদল যুবক অতর্কিতভাবে তার ওপর চড়াও হয়। অভিযুক্তরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাকে বাজারের মধ্যেই মারধর শুরু করে।

 

হামলাকারীরা স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে হামলার শিকার শিক্ষক উত্তম কুমার তার বিরুদ্ধে আনা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, যার সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলা হচ্ছে, তিনি তার ছাত্রী নন।

 

বরং উভয় পরিবারের সম্মতিতে ওই তরুণীর সঙ্গে তার বিয়ের কথাবার্তা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি বাজারে গেলে তারা কোনো কারণ ছাড়াই আমার ওপর হামলা চালায় এবং গুরুতর আহত করে।’

 

ঘটনার সময় শিক্ষক উত্তম কুমারকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তার বন্ধু এবং হারতা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম ফরাজী। তিনি জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই তারা দুজন একসঙ্গে চা পান করছিলেন। উত্তম কুমার একটি ব্যক্তিগত ঝামেলা মিটমাট করার জন্য স্থানীয় এক বিএনপি নেতার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন।

 

এর কিছুক্ষণ পরেই হট্টগোল শুনে গিয়ে দেখেন, ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী উত্তমকে মারধর করছে। বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে সিরাজুল ইসলাম ফরাজী নিজেও আহত হন বলে দাবি করেছেন। উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশ প্রশাসনের নজরে এসেছে।

 

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

 

এদিকে, একজন শিক্ষকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় এলাকার সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।