শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, উন্নত চিকিৎসায় ঢাকায় স্থানান্তর

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, উন্নত চিকিৎসায় ঢাকায় স্থানান্তর
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে জমে থাকা গ্যাসের ভয়াবহ বিস্ফোরণে শিশুসহ ৯ জন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে হালিশহরের এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামক একটি ছয় তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

 

দগ্ধদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রফিক উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, অগ্নিদগ্ধ ৯ জনের প্রত্যেকেরই শ্বাসতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

 

দগ্ধদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের তিনজনের শরীর শতভাগ, একজনের ৮০ শতাংশ এবং অপর দুজনের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। আহত তিন শিশুর মধ্যে দুজনের ২৫ শতাংশ এবং আরেকজনের ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাধারণত শিশুদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ১৫ শতাংশের বেশি পুড়ে গেলে চিকিৎসাবিজ্ঞানে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও আশঙ্কাজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই রোগীদের যেকোনো মুহূর্তে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) প্রয়োজন হতে পারে।

 

চমেক হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা না থাকায় চিকিৎসকদের পরামর্শে দগ্ধদের স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাচ্ছেন। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধরা হলেন-শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), মো. শিপন (৩০), মো. সুমন (৪০), মো. শাওন (১৭), মো. আনাস (৭), মো. আইমান (৯), আয়েশা আক্তার (৪), পাখি আক্তার (৩৫) ও রানী আক্তার (৪০)।

 

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, সোমবার ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে তৃতীয় তলার ওই ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাসায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা ত্বরিত পদক্ষেপ নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দগ্ধদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠান।

 

পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের তীব্রতায় কেবল তৃতীয় তলাই নয়, বরং পুরো ভবনটিই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনের দ্বিতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলার প্রতিটি ইউনিটের দরজা ভেঙে গেছে এবং লিফট সম্পূর্ণ বিকল হয়ে ছিঁড়ে পড়েছে।

 

বিস্ফোরণের প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ওই ফ্ল্যাটে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হতো না। সেখানে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ ছিল।

 

তিনি ধারণা প্রকাশ করে বলেন, কোনো ত্রুটির কারণে চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে পুরো রান্নাঘরে তা জমা হয়েছিল। পরবর্তীতে ভোরবেলা আগুন জ্বালাতে গেলে সেই জমে থাকা গ্যাসের ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং উপস্থিত সবাই মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।