মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি বেলা এগারোটা পঞ্চান্ন মিনিটের দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এই অকাল মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হালিশহরের ওই মর্মান্তিক বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়াল।
অনাকাঙ্ক্ষিত এই প্রাণহানির ঘটনায় ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মাঝে। সামির আহমেদ সুমনের শারীরিক অবস্থা ও মৃত্যুর সার্বিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ও সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে গণমাধ্যমকে জানান, বিস্ফোরণের পর হাসপাতালে নিয়ে আসার পর থেকেই সুমনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আগুনে তার শরীরের প্রায় পঁয়তাল্লিশ শতাংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিল। এর পাশাপাশি তার শ্বাসনালীও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ইনহেলেশন ইনজুরি’ বলা হয়।
শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ার কারণে তার শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। চিকিৎসকরা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করে আসছিলেন। কিন্তু সকল প্রকার চিকিৎসাসেবা ও আপ্রাণ চেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার দুপুরের ঠিক আগে আগে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এই গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় এর আগে নূরজাহান আক্তার এবং তার ছেলে শাওন নামের আরও দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। তাদের অকাল মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই সামির আহমেদ সুমনের মৃত্যুর খবর পরিস্থিতিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
এদিকে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা বাকি ছয়জনের শারীরিক অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। তাদের প্রত্যেককেই বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং জীবন বাঁচানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
আবাসিক এলাকায় এমন আকস্মিক ও প্রাণঘাতী গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকরা বাকি আহতদের সুস্থ করে তুলতে নিরলসভাবে তাদের পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন।
তবে আহতদের শরীরেও অগ্নিদগ্ধের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেশি হওয়ায় এখনই তাদের সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। গ্যাস লাইনের এই ধরনের ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও ধারাবাহিক প্রাণহানি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।