শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনসিপিকে সংরক্ষিত আসন ছাড়ছে জামায়াত, মনোনয়নের দৌড়ে ডা. মাহমুদা ও মনিরা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

এনসিপিকে সংরক্ষিত আসন ছাড়ছে জামায়াত, মনোনয়নের দৌড়ে ডা. মাহমুদা ও মনিরা
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই মনোনয়নের সম্ভাব্য চূড়ান্ত তালিকায় দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।

 

মূলত নির্বাচনী জোটের প্রধান শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে সফল ও ফলপ্রসূ আলোচনার প্রেক্ষিতেই জাতীয় নাগরিক পার্টি এই অতিরিক্ত আসনটি লাভ করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনগুলোর চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এরপর যাচাই-বাছাই, আপিল নিষ্পত্তি ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের মতো অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামী ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। জোটভিত্তিক আসন বণ্টন ও নির্বাচনী সমীকরণ অনুযায়ী, বর্তমান সংসদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তাদের মিত্ররা ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা একটি সংরক্ষিত আসন পাচ্ছেন।

 

সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি মোট ছয়টি আসনে বিজয়ী হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী তারা এমনিতেই একটি সংরক্ষিত নারী আসন লাভ করেছে। তবে রাজনৈতিক সমঝোতা ও জোটগত ঐক্যের অংশ হিসেবে তারা প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামীর কাছে আরও একটি অতিরিক্ত আসন দাবি করে।

 

যাতে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব নীতিগতভাবে সম্মতি জ্ঞাপন করেছে। এই রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতেই মূলত জামায়াতে ইসলামীর জন্য নির্ধারিত অংশ থেকে ডা. মাহমুদা আলম মিতুকে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নিজস্ব বরাদ্দ থেকে মনিরা শারমিনকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে।

 

দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে, জোটের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই বিষয়ে সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে এবং আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যেই দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

 

এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থিতার বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও জোটের সাথে তাদের আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে।

 

নির্বাচন কমিশনের সমস্ত বিধিবিধান মেনেই তারা প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার কাজ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, পুরো বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী মহাসচিব হামিদুর রহমান আজাদ জানান, তাদের জোটের ১৩টি আসনের মধ্য থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে তাদের নিজস্ব একটির পাশাপাশি জোটের পক্ষ থেকে আরও একটি বাড়তি আসন ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

 

এর বাইরে জোটের আরেক শরিক দল জাগপাকে একটি আসন দেওয়া হবে। একইসাথে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে নিহত এক শিশুর মাকে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা ও স্বীকৃতি হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে।