বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের মধ্যে এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটে।
সংসদীয় কার্যপ্রণালিতে ব্যবহৃত ভাষা, রাজনৈতিক শিষ্টাচার এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে উভয় পক্ষ পরস্পরকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে, যা সংসদের স্বাভাবিক পরিবেশে ব্যাপক উত্তাপ ছড়ায়।
অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া জোরালো অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সদ্যোজাত সরকারকে বাধাগ্রস্ত ও নাজেহাল করতে বিরোধী দল ক্রমাগত নানামুখী রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।
তিনি মন্তব্য করেন, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের বর্তমান আচরণ ও কর্মকাণ্ড এটাই প্রমাণ করে যে, তারা আগামী দিনে দেশে কোনোভাবেই সুস্থ ধারার রাজনীতির চর্চা হতে দিতে চায় না।
এই পর্যায়ে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, যারা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাকে অন্তরে মেনে নিতে পারেনি, মূলত তারাই এখন বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।
এরপর তিনি গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর শিবিরের হামলার ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে সংসদের নজরে আনেন। তিনি জোরালো দাবি করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কেবল ‘গুপ্ত’ শব্দটি উচ্চারণ ও লেখার কারণেই তাদের ওপর এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে, যা মূলত দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর চরম আঘাতের শামিল।
একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, তাঁদের দলের সাধারণ ভোটাররা এই পরিস্থিতিতে নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকবে না, বরং তারা এই অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানাবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের সদস্যরা ফ্যাসিবাদী কায়দায় সংসদে অন্যদের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সরকারি দলের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পরপরই সংসদে দাঁড়িয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তিনি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার ব্যবহৃত শব্দগুলোকে সরাসরি ‘অসংসদীয়’ আখ্যা দিয়ে তা সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যবিবরণী থেকে অবিলম্বে বাদ বা এক্সপাঞ্জ দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে জোর দাবি জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, একজন দায়িত্বশীল আইনপ্রণেতা পবিত্র সংসদের ভেতরে দাঁড়িয়ে যেভাবে প্রকাশ্যে হুমকির সুরে কথা বলেছেন, তা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং এতে বিরোধী দলের সদস্যরা গভীরভাবে আহত হয়েছেন।
ভোটাররা বসে থাকবে না-সরকারি দলের এই হুঁশিয়ারির কড়া সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা আসলে সাধারণ জনগণকে কোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলার দিকে উসকে দিচ্ছেন কি না।
এ ধরনের উসকানিমূলক ও হুমকিস্বরূপ বক্তব্য কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় শিষ্টাচারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।