'বিএনপি নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপির আশ্রয় নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে'-জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের করা এমন অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে জামায়াতে ইসলামীকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার লক্ষ্যে সবাইকে সচেতনভাবে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অত্যন্ত কঠোর ও সুস্পষ্ট ভাষায় বলেন, জামায়াতে ইসলামীর অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস দেশবাসীর কাছে আগে থেকেই অত্যন্ত পরিষ্কার এবং দেশের সাধারণ জনগণ এরই মধ্যে অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি জনসমক্ষে প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও চরম বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে তারা দেশটিকে নতুন করে কোনো অন্ধকার স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিতে চাইছে কি না, তা এখন গভীরভাবে ভেবে দেখার সময় উপস্থিত হয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, আগামী দিনে রাজনৈতিকভাবে তাদের যাতে পুরোপুরি ও চিরতরে নির্মূল করা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোকে সেই লক্ষ্যেই এখন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
জামায়াত আমিরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্যকে দেশবাসীর মনে নতুন করে বিভেদ ও ধুম্রজাল সৃষ্টির এক সুকৌশলী অপপ্রয়াস হিসেবেও আখ্যায়িত করেন তিনি। দেশের সাম্প্রতিক ও চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর একটি সম্পূর্ণ অবাধ, অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটেছে।
দীর্ঘ আঠারো বছরের চরম কর্তৃত্ববাদী, অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী শাসনের চূড়ান্ত অবসানে ছাত্র ও সাধারণ জনতার এক ঐতিহাসিক এবং যুগান্তকারী অভ্যুত্থানের পর একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই ঐতিহাসিক নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়।
দেশি ও বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকসহ সমগ্র আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচনটি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি সর্বজনীনভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। তিনি দেশবাসীকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, এমন একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ, উৎসবমুখর ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুইশত তেরোটি আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে বর্তমান সরকার গঠন করেছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দীর্ঘ বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে গিয়ে আরও জোরালোভাবে উল্লেখ করেন, এত চমৎকার, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ একটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জামায়াত আমিরের এই ধরনের অনভিপ্রেত মন্তব্য কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূতই নয়, বরং তা যেকোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক চিন্তাধারারও সম্পূর্ণ পরিপন্থী একটি কাজ।
তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গত পাঁচ আগস্টের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর সমগ্র দেশে গণতন্ত্রকে একটি মজবুত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, একটি বিশেষ মহল বারবার ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সেই সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং সকল প্রকার অপতৎপরতা রুখে দিতে দেশবাসীকে সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।