এই উত্তেজনাকর ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির পরপরই বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত বিস্ফোরক স্ট্যাটাস দেন ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি ইংরেজিতে মাত্র তিনটি শব্দ লিখে পোস্ট করেন-‘গেট আউট চুপ্পু’। স্ট্যাটাসটি প্রকাশের মুহূর্তের মধ্যেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ধারা অনুযায়ী, হাসনাত আব্দুল্লাহর ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসে ব্যবহৃত ‘চুপ্পু’ শব্দটি দিয়ে মূলত বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকেই সরাসরি ইঙ্গিত করা হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তিনি এই নামেই সমধিক পরিচিত।
এই অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি মন্তব্যের পেছনে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। তবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সংসদের ভেতরের উত্তপ্ত ওয়াকআউট পরিস্থিতির সাথে এই স্ট্যাটাসের যে গভীর ও প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে, তা একেবারেই স্পষ্ট।
বিরোধী দলের এই নজিরবিহীন প্রতিবাদ এবং একজন নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধির এমন উন্মুক্ত স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা, বিশ্লেষণ ও সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
সংসদীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে যখন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক ভাষণের ঘোষণা দেন, ঠিক তখন থেকেই মূল অধিবেশন কক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।
স্পিকারের ওই ঘোষণার পরপরই বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্য নিজেদের আসন থেকে উঠে দাঁড়ান এবং হাতে বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে উচ্চকণ্ঠে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।
স্পিকার তাদের ধৈর্য ধারণ করে সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের বক্তব্য শোনার বিনীত অনুরোধ জানালেও তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ অটল থাকেন। এরপর যখন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তার পূর্বনির্ধারিত ভাষণ দেওয়া শুরু করেন, তখনো বিরোধীরা দাঁড়িয়ে তাদের জোরালো প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন।
একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালেই তারা একযোগে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করে বাইরে বেরিয়ে আসেন। উল্লেখ্য, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ দেওয়ার বিষয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী রাজনৈতিক জোট আগে থেকেই তাদের সুনির্দিষ্ট, নীতিগত ও কঠোর আপত্তির কথা জানিয়ে আসছিল, যার চূড়ান্ত ও নাটকীয় বহিঃপ্রকাশ ঘটল এই ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে।