শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াতে

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াতে
ছবি: সংগৃহীত

পূর্বঘোষিত ‘জুলাই সনদ’-এর রূপরেখা অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা না হলে রাজপথে কঠোর ও ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন এগারো দলীয় ঐক্য।

 

জোটের শীর্ষ নেতারা অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, সরকার যদি জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে রোববারের মধ্যে এই অধিবেশন ডাকতে ব্যর্থ হয়, তবে আগামী আটাশে মার্চ থেকে দেশব্যাপী একটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর আন্দোলনের রূপরেখা বাস্তবায়ন করা হবে।

 

শনিবার জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এগারো দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি এই চূড়ান্ত সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং এগারো দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।

 

তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই সনদে যে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা ও জাতীয় প্রতিশ্রুতি লিপিবদ্ধ রয়েছে, সে অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার জন্য রোববারের দিনটিই হচ্ছে সরকারের হাতে থাকা সর্বশেষ সময়সীমা।

 

সুতরাং, জাতীয় স্বার্থে এবং ক্রমবর্ধমান জনদাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারকে অবিলম্বে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

সরকার যদি এই যৌক্তিক সময়ের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে তার রাজনৈতিক পরিণতি অত্যন্ত গুরুতর হবে বলে সতর্ক করে দেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, সরকার যদি এই যৌক্তিক দাবি পূরণে কালক্ষেপণ করে, তবে তারা জাতির কাছে কোনোভাবেই ক্ষমা পাবে না।

 

বিশেষ করে জাতীয় সংসদের নেতা এবং সামগ্রিকভাবে বর্তমান সরকারকে এই চরম অবহেলা ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করতে হবে। দেশের আপামর জনগণকে অবজ্ঞা করা এবং জনমতকে প্রতিনিয়ত উপেক্ষা করে চলার যে নীতি সরকার গ্রহণ করেছে, সেটি দেশবাসী মেনে নেবে না।

 

একই সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, একটি দায়িত্বশীল ও কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদে জনগণের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবেন।

 

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে হামিদুর রহমান আযাদ জোটের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল ও পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, শনিবারের অত্যন্ত ফলপ্রসূ এই বৈঠক থেকে তারা একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।

 

যদি সরকার রোববারের মধ্যে জুলাই সনদের সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কাঙ্ক্ষিত অধিবেশন না ডাকে, তবে দেশের আপামর মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তারা রাজপথের তীব্র আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

 

উদ্ভূত এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জোটের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের জরুরি বৈঠক ডেকে পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রতিবাদ কর্মসূচি দেশবাসীর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।