শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের ওপর বিদেশি কোনো আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না- জামায়াত আমির

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ মার্চ, ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

বাংলাদেশের ওপর বিদেশি কোনো আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না- জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সকল সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্য আর মেনে নেওয়া হবে না।

 

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুস্থ মানুষদের মাঝে চীনের সহায়তায় ঈদ উপহার বা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অতীতের মতো বিদেশি আধিপত্যের বোঝা জাতি আর বহন করবে না। দেশের তরুণ ও যুবসমাজ এখন অত্যন্ত সচেতন; তারা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে একজন গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে চায়।

 

তাই সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতেই বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারিত হবে বলে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের সুদৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, ১৯৭৬ সাল থেকে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে চীন কখনোই অযাচিত হস্তক্ষেপ করেনি। অন্যদিকে এমন অনেক দেশ রয়েছে, যারা কোনো সহায়তা না করেই অন্যায়ভাবে খবরদারি করতে চায়।

 

এ সময় তিনি বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সম্পূর্ণ চীনের অর্থায়নে নির্মিত ‘চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র’-এর নাম পরিবর্তন করে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার চরম অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছিল।

 

তবে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ সেই দখলদারিত্বের অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ হিসেবে পরিচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে চীনের আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন বিরোধীদলীয় এই নেতা।

 

তিনি জানান, দেশের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতির আলোকে জনগণের কল্যাণে এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি, বাংলাদেশে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট দুটি আধুনিক হাসপাতাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশাল আবাসিক ভবন নির্মাণে চীনের সাম্প্রতিক প্রতিশ্রুতি ও অর্থ বরাদ্দের ঘোষণাকেও তিনি বন্ধুত্বের অনন্য নিদর্শন হিসেবে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ঈদ হচ্ছে ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও আনন্দ ভাগাভাগি করার উৎসব। এই আনন্দ আয়োজনে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই চীনের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

 

এ সময় তিনি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় একটি নতুন ও সমৃদ্ধ দেশ বিনির্মাণে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।