শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২৬
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা ও জলপাইগুড়ির মধ্যে পুনরায় চালু হচ্ছে মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ জুলাই, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

ঢাকা ও জলপাইগুড়ির মধ্যে পুনরায় চালু হচ্ছে মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন
ছবি : Collected

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থায় আবারও নতুন গতির সঞ্চার হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দুই বছরের টানা বিরতির পর প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে পুনরায় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করার জোর প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে চলাচলকারী জনপ্রিয় যাত্রীবাহী ট্রেন ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ ফের সীমান্ত পেরিয়ে তার নিয়মিত যাত্রা শুরু করবে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট দেশীয় কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক আলোচনা থেকে এই ইতিবাচক বার্তাটি পাওয়া গেছে, যা দুই দেশের সাধারণ নাগরিক, চিকিৎসাপ্রার্থী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।

 

আধুনিক ও আরামদায়ক এই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় সচল হলে দুই দেশের মানুষের মধ্যকার মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। গত ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান এবং তৎপরবর্তী রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সকল প্রকার আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

 

সেই উত্তাল সময় পেরিয়ে দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। ভৌগোলিক নৈকট্য এবং ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারতে যাতায়াত করে থাকেন।

 

আর যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে আকাশপথের তুলনায় রেলপথে ভ্রমণ অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং আরামদায়ক হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে এই ট্রেনগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় এই বিশাল সংখ্যক যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে আবারও নিবিড় দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি-২৪ বৃহস্পতিবার তাদের প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে জানিয়েছে যে, ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রবেশদ্বার নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে ইতোমধ্যেই পুরোদমে কাজ চলছে।

 

ভারতের কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করছে এবং তারা শিগগিরই এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে ওই সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নির্ভরযোগ্য খবর অনুযায়ী, এই দীর্ঘ অচলাবস্থা নিরসনে সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।

 

সেই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ট্রেনের সার্বিক নিরাপত্তা, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক দিক নিয়ে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনার পর মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর ব্যাপারে উভয় পক্ষের নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকেই সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে।

 

ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করার পূর্বে যাত্রী নিরাপত্তা ও কারিগরি বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় রেললাইনের যে কাঠামোগত সুরক্ষা ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করার প্রয়োজন ছিল, তা ইতোমধ্যেই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

এর পাশাপাশি সিগন্যালিং ব্যবস্থা, ট্রেনের বগিগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক বিষয়গুলোর প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কারিগরি দলের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেলেই আগামী অল্প কয়েকদিনের মধ্যে ট্রেনের নতুন সময়সূচি, ভাড়ার তালিকা এবং টিকিট বুকিংয়ের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের গণমাধ্যমে ঘোষণা করা হতে পারে।

 

এই সুসংবাদের জন্য উভয় দেশের যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এদিকে, এই ট্রেন চালুর সম্ভাবনার পাশাপাশি আরেকটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক খবর হলো ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকীকরণ।

 

দীর্ঘ বিরতি ও নানা বিধিনিষেধের পর গত সপ্তাহ থেকে ভারতীয় দূতাবাস পুনরায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটক বা টুরিস্ট ভিসা প্রদান শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের জন্য ভিসা প্রদান পরিষেবা নতুন করে চালু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতকারী মানুষের সংখ্যা অচিরেই বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

পর্যটক ভিসা চালুর এই উদ্যোগ আন্তঃদেশীয় পর্যটন শিল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি এবং মিতালী এক্সপ্রেস চালুর উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী অপর দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাত্রীবাহী ট্রেন-ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ এবং খুলনা ও কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ পুনরায় চালু হওয়ার পথও ব্যাপকভাবে সুগম হবে বলে কূটনৈতিক ও রেলওয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা জোরালো ধারণা পোষণ করছেন।

 

সব মিলিয়ে রেল যোগাযোগের এই পুনর্জাগরণ কেবল যাতায়াতই সহজ ও সাশ্রয়ী করবে না, বরং দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও আর্থসামাজিক সম্পর্কেও সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

- জি-২৪