বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে উত্তাল দিল্লি, ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম

প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে উত্তাল দিল্লি, ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ
ছবি : Collected

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টির চলমান তীব্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রশাসন বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

 

এই উত্তাল পরিস্থিতির কারণে এবং সার্বিক নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে শহরের অন্তত ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন।

 

বিগত কয়েক দিন ধরে চলা এই ছাত্রবিক্ষোভ এবং এর সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক টানাপোড়েন ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার ফলে রাজধানীর দৈনন্দিন জনজীবনেও একপ্রকার স্থবিরতা নেমে এসেছে।

 

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সার্বক্ষণিক নজর এখন দিল্লির যন্তর মন্তর এবং এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোর দিকে নিবদ্ধ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত একটি বিশদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সকালে উদ্ভূত পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কায় দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করে।

 

ওই বিবৃতিতে জানানো হয় যে, নিরাপত্তার বৃহত্তর স্বার্থে লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম মেট্রো স্টেশনের সব ধরনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।

 

তবে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের ন্যূনতম সুবিধার্থে শুধুমাত্র রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ বা এক লাইন থেকে অন্য লাইনে যাওয়ার সুবিধা চালু রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

 

এর আগে গত সোমবারও ককরোচ জনতা পার্টির আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষের সংসদ ভবন অভিমুখে বিশাল পদযাত্রার কারণে প্রশাসন বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল।

 

শিক্ষার্থীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও চলমান আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে রাজপথে নেমেছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। বিশেষ করে সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা বা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী।

 

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পক্ষে এবং তাদের ওপর চালিত পুলিশি দমন-পীড়নের তীব্র প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গেলে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে দিল্লি পুলিশ আটক করে।

 

বিরোধী দলের এই শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটকের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আটকের পর রাহুল গান্ধীকে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে কড়া পাহারায় রাখা হয়।

 

পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে সাবেক কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ওই দিন রাতেই মন্দির মার্গ থানায় গিয়ে কন্যা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে এই দুই শীর্ষ নেতাকে পুলিশের হেফাজত থেকে বিনাশর্তে মুক্তি দেওয়া হয়।

 

পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই রাহুল গান্ধী সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট পাঁচটি দাবি পেশ করেন। একটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন রাষ্ট্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এমন নির্মম শোষণের জন্য তিনি সরাসরি বর্তমান প্রশাসনকে অভিযুক্ত করেন।

 

তার প্রথম ও প্রধান দাবি হলো, শিক্ষাব্যবস্থায় এই বিশাল দুর্নীতির নৈতিক দায়ভার কাঁধে নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অবিলম্বে তাদের নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।

 

দ্বিতীয়ত, গত সোমবার শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর যেসকল পুলিশ সদস্য বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

 

তৃতীয়ত, নিজেদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যেসব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেছে, তা অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। চতুর্থত, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এই অমানবিক ও অপ্রত্যাশিত পুলিশি অভিযানের জন্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে সমগ্র জাতির সামনে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

 

সবশেষে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন যে, উদ্ভূত এই গভীর জাতীয় সংকট নিরসনে ভারতের সংসদে একটি পূর্ণাঙ্গ ও গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব দেশের সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে ব্যাপক ও যুগান্তকারী সংস্কার আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাজীবন আর কখনো এমন চরম হুমকির মুখে না পড়ে।

 

- এনডিটিভি