সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন আলিমা খান আটক!

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন আলিমা খান আটক!
ছবি : Collected

পাকিস্তানের উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও চরম অস্থিরতা ও নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সহোদরা আলিমা খান এবং দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতা মুহাম্মদ আমিরকে ত্রিশ দিনের জন্য আটক রাখার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করেছে লাহোরের স্থানীয় প্রশাসন।

 

বিতর্কিত জনশৃঙ্খলা রক্ষা বা এমপিও আইনের তিন নম্বর ধারা প্রয়োগ করে তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পরপরই কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যে দিয়ে দুজনকেই লাহোরের ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত সুরক্ষিত কোট লাখপাত কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসলামাবাদ ও লাহোরসহ পুরো পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে লাহোর জেলা প্রশাসন এই আটকাদেশ জারি করেছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিগত ৯ মে তারিখে দেশজুড়ে সংঘটিত তীব্র বিক্ষোভ, সহিংসতা এবং সড়ক অবরোধের যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল, সেখানে আলিমা খান এবং মুহাম্মদ আমির উভয়েরই প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ছিল।

 

একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানো এবং দলের তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মীদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য সরাসরি প্ররোচিত ও উসকে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

 

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, এই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মুক্ত অবস্থায় জনসাধারণের মধ্যে থাকলে স্থানীয় এলাকার সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। তাই জননিরাপত্তা রক্ষা ও বৃহত্তর সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই তাদেরকে সাময়িকভাবে নিবর্তনমূলক আটকের আওতায় আনা হয়েছে।

 

তবে আইনি কাঠামোর আওতায় আটককৃতদের এই আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কিংবা আদালতে পুনর্বিবেচনার আপিল করার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনার দিন লাহোরের ব্যস্ততম লিটন রোড এলাকা থেকে অত্যন্ত আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত এক অভিযান চালিয়ে আলিমা খানকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

 

কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাকে সরাসরি হেফাজতে নেওয়ার পর দ্রুততম সময়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ইমরান খানের বোনের মতো পরিবারের একজন অন্যতম জ্যেষ্ঠ সদস্যকে এভাবে প্রকাশ্য রাস্তা থেকে আটক করার খবর ছড়িয়ে পড়লে পিটিআইয়ের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

 

তারা এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে নিন্দা প্রকাশ করছেন। এদিকে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চরম ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের বর্তমান সভাপতি ব্যারিস্টার গোহর খান।

 

এক তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকার অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় করে তোলার হীন অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

 

তিনি জানান, তাদের দল আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে দেশজুড়ে একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সেই গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে বানচাল ও দমন করার নোংরা কৌশল হিসেবেই মূলত আলিমা খানকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে।

 

বিরোধীদের রাজনৈতিক কণ্ঠরোধ করতে রাষ্ট্রযন্ত্রের এমন অপব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করার জোরালো আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি কোনো ধরনের আইনি বিলম্ব না করে অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে আলিমা খানকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দ্ব্যর্থহীন দাবি পেশ করেছেন।

 

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইমরান খানের দীর্ঘদিনের বন্দিত্বের পর তার রক্তের সম্পর্কের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন সরাসরি আইনি পদক্ষেপ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে আরও জটিল মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

 

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে ঘিরে বিরোধী দল ও শাসক জোটের মধ্যকার এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। আপাতত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকদের দৃষ্টি লাহোরের আদালত এবং সরকারের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে।

 

- সামা টিভি