শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যান্সার ও কিডনিসহ ছয়টি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তরা বছরে পাবেন এক লাখ টাকা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

ক্যান্সার ও কিডনিসহ ছয়টি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তরা বছরে পাবেন এক লাখ টাকা
ছবি: সংগৃহীত

অর্থাভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের জন্য এক যুগান্তকারী ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ার মতো ছয়টি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের সরকারি আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, এসব জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা এখন থেকে বছরে একবার ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে পূর্ণ ১ লাখ টাকা করে এককালীন চিকিৎসা সহায়তা পাবেন।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনকল্যাণমুখী ঘোষণা দেন।

 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালিত হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রান্তিক রোগীদের এই আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

 

বাজেট প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে দেশের অসংখ্য মানুষ দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা চালাতে গিয়ে অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে।

 

দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জীবনরক্ষায় পরিচালিত সরকারের এই মানবিক সহায়তা কর্মসূচি সর্বমহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শীর্ষক সময়োপযোগী প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আসন্ন অর্থবছরের জন্য সর্বমোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার সুবিশাল বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও কাঠামোগত উন্নয়নের এই বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আয় ও ব্যয়ের এই আনুপাতিক হিসাব অনুযায়ী, সামগ্রিক বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

 

বাজেটের এই সুবিশাল ঘাটতি সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের একটি সমন্বিত রূপরেখা প্রণয়ন করেছে।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকার অর্থসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।

 

এই প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আগামী অর্থবছরে দেশের মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার একটি দৃঢ় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫তম এই জাতীয় বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

 

বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জন্য এটি প্রথম বাজেট পেশ। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের পূর্বে প্রস্তাবিত এই বাজেট বিশেষ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে তাঁর আনুষ্ঠানিক সম্মতি প্রদান করেন। সব দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই অর্থবছর দেশব্যাপী কার্যকর হবে।