মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ের গণতান্ত্রিক ধারা ও প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করতে বহুল প্রতীক্ষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সরকারের পূর্বঘোষিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই দেশজুড়ে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন।

 

কমিশনের এই সিদ্ধান্তের আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ে মাঠপর্যায়ের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে। সোমবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বার্তা আসার পর থেকেই দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

 

সাধারণ ভোটার ও স্থানীয় নেতৃত্বের মাঝে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের গভীর আগ্রহ ও স্বতঃস্ফূর্ত উদ্দীপনা। সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলাপকালে এই রূপরেখা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ।

 

তিনি জানান, কমিশনের সামগ্রিক প্রস্তুতি এখন সুসংহত পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ করেই পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে। আগারগাঁওয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, তৃণমূল স্তরে জনপ্রতিনিধিত্ব ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিশন কোনো ধরনের কালক্ষেপণ ছাড়াই ধাপে ধাপে নির্বাচনী দায়িত্ব সম্পন্ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

 

তার এই দায়িত্বশীল বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সূচি নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলা নানা ধরনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। কমিশনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিশদ ব্যাখ্যা তুলে ধরে এই নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করেন যে, আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই মূলত মাঠপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

 

প্রাথমিক ধাপে দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন সুসম্পন্ন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং বিপুল সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ বিবেচনায় নিয়ে সারা দেশের এই নির্বাচন একযোগে না করে কয়েকটি পৃথক ধাপে সম্পন্ন করার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

 

মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যকর রাখা, নির্বাচনী সরঞ্জাম নিরাপদভাবে পৌঁছানো এবং সামগ্রিক ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখার স্বার্থেই কমিশন এমন সুবিন্যস্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা সাধারণ নাগরিকদের জন্য একটি ভয়হীন ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করবে।

 

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিদ্যমান আইনি কাঠামো এবং সম্ভাব্য আইন সংস্কার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশনার একটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট বার্তা দেন।

 

তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর পূর্বে যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আইনে নতুন কোনো রূপরেখা বা সংশোধনী কার্যকর না হয়, তবে নির্বাচন কমিশন বিদ্যমান ও প্রচলিত আইনের ওপর ভিত্তি করেই ভোট পরিচালনার সব প্রস্তুতি নিশ্চিত করবে।

 

অর্থাৎ, আইন সংশোধনের জন্য অপেক্ষা করে নির্বাচনী কার্যক্রম পিছিয়ে দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। সময়ের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের স্বার্থে বর্তমান আইনি কাঠামোর অধীনেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ে নিরপেক্ষভাবে ভোট অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের আইনি প্রতিবন্ধকতা কিংবা কার্যগত অচলাবস্থার সৃষ্টি না হয়।

 

স্থানীয় সরকার কাঠামো মূলত সাধারণ জনগণের প্রাত্যহিক নাগরিক সেবা প্রদান এবং গ্রামীণ উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তৃণমূল পর্যায়ের এই স্তরগুলোতে দীর্ঘ সময় নির্বাচিত প্রতিনিধির অনুপস্থিতি থাকলে সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তি ও আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

 

ফলে নির্বাচন কমিশনের এমন সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা পুনর্প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা। নভেম্বরের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তৃণমূল প্রশাসনে জনস্বার্থ নিশ্চিত করার একটি টেকসই পথ উন্মোচিত হবে।