শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬
২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁবেদার রাষ্ট্র গড়ার ষড়যন্ত্র রুখতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:৪১ পিএম

ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁবেদার রাষ্ট্র গড়ার ষড়যন্ত্র রুখতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে এই দেশকে ভবিষ্যতে আর কেউ যেন কোনো বিদেশি শক্তির তাঁবেদার বা আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই এবারের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের প্রধান ও অন্যতম অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এই সুমহান অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য সমগ্র জাতির মধ্যে এক সুদৃঢ় ও ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা অপরিহার্য।

 

আর এই বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যকে দীর্ঘস্থায়ী ও অর্থবহ করতে হলে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মূল চেতনাকে প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের মনে-প্রাণে গভীরভাবে ধারণ করতে হবে।

 

শনিবার রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশাল ও আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও জাতীয় ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের রক্তক্ষয়ী স্বৈরাচার বিরোধী দুর্বার গণআন্দোলন এবং সর্বশেষে ২০২৪ সালের অভাবনীয় ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-এই প্রতিটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী ঘটনা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ তাদের জাতীয় স্বার্থ, ভূখণ্ডের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনোই কোনো ধরনের আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

 

দেশের আপামর মানুষের কাছে দলমতের ঊর্ধ্বে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশই হলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন যে, ১৯৭৫ সালের ঠিক এই দিনটিতেই বাংলার অকুতোভয় দেশপ্রেমিক সিপাহী ও সাধারণ জনতা এক অভূতপূর্ব ঐক্যের মাধ্যমে রাজপথে নেমে এসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী সকল গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে রুখে দিয়েছিল।

 

ইতিহাসের সেই উত্তাল দিনগুলোর প্রেক্ষাপট অত্যন্ত বিশদভাবে বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্র এক চরম ও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল।

 

সেই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর দিবাগত গভীর রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম রণাঙ্গনের বীর সেনানী লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়।

 

স্বাধীনতার এই মহান ঘোষককে বন্দি করে রেখে দেশের জাতীয় স্বার্থবিরোধী যে নীলকশা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, দেশের সাধারণ সিপাহী ও জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করেছিল।

 

তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, সেসময় যারা বাংলাদেশকে একটি আজ্ঞাবহ বা তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার দুঃস্বপ্ন দেখেছিল, যারা সাধারণ জনগণের বহুল কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার জোরপূর্বক হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিল এবং যারা বাংলাদেশের গর্বিত সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব, ঐতিহ্য ও অসামান্য মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সেই ঐতিহাসিক বিপ্লবের প্রবল স্রোতে তাদের সেই হীন উদ্দেশ্য চূড়ান্তভাবে পরাজয় বরণ করেছিল।

 

তবে সেই পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র কখনোই পুরোপুরি থেমে থাকেনি বলে দেশবাসীকে সতর্ক করে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, পরবর্তী সময়ে সেই একই অপশক্তি বিভিন্ন রূপে ও ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে পুনরায় সংগঠিত হয়ে এই স্বাধীন দেশকে আবারও একটি তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার নিরন্তর অপচেষ্টা চালিয়েছে।

 

এই প্রসঙ্গে তিনি পিলখানায় সংঘটিত অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও মর্মান্তিক সেনা হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করেন, যার মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষার অন্যতম স্তম্ভ সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করার এক গভীর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হয়েছিল।

 

একইসঙ্গে দেশের সাধারণ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং নির্বিঘ্নে রাজনৈতিক চর্চার পথ রুদ্ধ করে দেশে এক ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলার মুক্তিকামী মানুষ কখনোই সেই পরাধীনতার শৃঙ্খল মেনে নেয়নি।

 

হাজারো সাধারণ মানুষ, ছাত্র ও জনতার চরম আত্মত্যাগ এবং রক্তের বিনিময়ে ২০২৪ সালের এক অভূতপূর্ব ও রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই স্বৈরাচারী অপশক্তির চূড়ান্ত পতন ঘটে এবং দেশ দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন থেকে মুক্ত হয়।

 

এই দীর্ঘ ও কণ্টককীর্ণ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যারা অকাতরে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও গুরুতর আহত হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তাঁদের সেই অসামান্য অবদানের কথা অত্যন্ত গভীর শ্রদ্ধা, আবেগ ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষার ধারাবাহিক সংগ্রামের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জনের এক সশস্ত্র সংগ্রাম, আর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ছিল সেই অর্জিত স্বাধীনতা এবং দেশের আপামর জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার এক মরণপণ লড়াই।

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে এসে স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত করেছিল, ঠিক একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও দেশের দেশপ্রেমিক সিপাহী ও সাধারণ জনতা এক কাতারে দাঁড়িয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে জাতীয় সংহতি নিশ্চিত করেছিল।

 

প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সময়ের কষ্টিপাথরে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন পথরেখা নির্ধারণের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক দিন।

 

যখনই বাংলাদেশ এই ৭ নভেম্বরের মূল চেতনা থেকে বিচ্যুত হওয়ার উপক্রম হয়েছে, ঠিক ততবারই দেশের স্বাধীনতা, অখণ্ডতা এবং সাধারণ জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা চরম হুমকির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

 

জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের রাজনৈতিক দল ভিন্ন হতে পারে, আমাদের ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় ভিন্ন হতে পারে। এ দেশে বসবাসকারী মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য-সবারই একটি মাত্র সর্বজনীন ও গর্বিত আত্মপরিচয় রয়েছে, আর তা হলো আমরা সবাই জাতি হিসেবে গর্বিত ‘বাংলাদেশি’।

 

এই একটিমাত্র অনন্য পরিচয়ই আমাদের বহুধা বিভক্ত সমাজকে এক সুদৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ আধুনিক জাতিতে পরিণত করেছে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনা এই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শিক ভিত্তিকে আরও বেশি সুদৃঢ় ও টেকসই করেছিল।

 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পৃথিবীর মানচিত্রে যতদিন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির অস্তিত্ব সগৌরবে টিকে থাকবে, ততদিন সিপাহী-জনতার সেই ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা অম্লান থাকবে।

 

প্রধানমন্ত্রী এই পর্যায়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তিনি যেমন অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে পাহাড়সম দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে ১৯৭১ সালের চরম সংকটের মুহূর্তেও তিনিই প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে সম্মুখসমরে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন।

 

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি জাতির ইতিহাস কখনোই কেবল অতীতের কিছু ঘটনার স্মৃতিচারণ হতে পারে না; বরং একটি নির্ভুল ও সঠিক ইতিহাস হলো যেকোনো জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা এবং সম্মিলিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের সবচেয়ে বড় প্রেরণার উৎস।

 

আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এদিনের অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ ও ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী এবং তরুণ-তরুণী যেভাবে ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন, তা সত্যিই অভাবনীয়।

 

নতুন প্রজন্ম যদি নিজেদের শেকড়ের সন্ধান পেয়ে ৭ নভেম্বরের এই দেশপ্রেমের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশ আর কখনোই তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য থেকে পথ হারাবে না।

 

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যে দেশের তরুণ প্রজন্ম তাদের নিজস্ব জাতীয়তাবাদ এবং দেশপ্রেমে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত নয়, সে দেশের জনগণের ঐক্য কখনোই সুদৃঢ় বা টেকসই হতে পারে না।

 

স্বাধীনতা অর্জনকে একটি ঐতিহাসিক গৌরব হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই অর্জিত গৌরবের পতাকাকে চিরকাল সমুন্নত রেখে দেশের স্বাধীনতাকে সত্যিকার অর্থে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের অন্যতম প্রধান পবিত্র দায়িত্ব।

 

বিশেষ করে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাঁধেই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। তাদেরকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্র অন্তরে ধারণ করে একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ, মানবিক এবং বিশ্বদরবারে মর্যাদাপূর্ণ আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

 

একজন প্রকৃত অভিভাবক হিসেবে দেশের তরুণ সমাজের সমস্ত লুক্কায়িত সম্ভাবনা বিকাশের জন্য একটি উপযুক্ত, মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণ করতে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

পরিশেষে দেশের আপামর জনসাধারণের প্রতি এক বিশেষ ও আবেগপূর্ণ আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের এই স্মরণীয় দিনে প্রতিটি দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের হৃদয়ের গভীর থেকে একটাই সুদৃঢ় উচ্চারণ হওয়া উচিত-দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ।

 

অর্থাৎ, দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় স্বার্থ নির্ধারণে বাংলাদেশ কখনোই অন্য কোনো বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত করবে না, বরং নিজেদের দেশের মানুষের সম্মান ও কল্যাণই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

 

রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্যবৃন্দ, জাতীয় সংসদের সদস্যগণ, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের পদস্থ প্রতিনিধিবৃন্দ, সশস্ত্র তিন বাহিনীর প্রধানগণ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

এছাড়া দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ও স্কাউটস সদস্য এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক মহামিলনমেলায় পরিণত হয়, যা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য এক অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করে।