বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬
১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলকে বার্ষিক সামরিক অর্থ সহায়তা বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র - ট্রাম্প

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

ইসরায়েলকে বার্ষিক সামরিক অর্থ সহায়তা বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র - ট্রাম্প
ছবি : Collected

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক অভাবনীয়, যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগামী বছর থেকে ইসরায়েলকে আর কোনো ধরনের বার্ষিক সামরিক অর্থ সহায়তা প্রদান করবে না বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, স্পর্শকাতর ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত মিত্র দেশ ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর যে বিপুল পরিমাণ সামরিক ও আর্থিক অনুদান দিয়ে আসছিল, তা চিরতরে বন্ধ করার বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটি চূড়ান্ত ও কার্যকর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

 

এই আকস্মিক সিদ্ধান্তটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সামরিক, কৌশলগত ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন ভূমিকা পালন করে আসছে।

 

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ফক্স নিউজ নামক একটি জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে টেলিফোনে দেওয়া এক বিশেষ ও বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করেন।

 

সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সাবলীল ভাষায় জানান, ইসরায়েলকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে অতীতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছিল, যার অধীনে ইসরায়েল প্রতি বছর চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার করে সরাসরি আর্থিক অনুদান পাচ্ছিল।

 

কিন্তু বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট, পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের নিজস্ব সক্ষমতার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করে কয়েক মাস আগে তারা একটি নতুন চুক্তিতে উপনীত হয়েছেন।

 

এই নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরু থেকেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা প্রদান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। ট্রাম্প তার বক্তব্যে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমরা উভয়েই এই বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত হয়েছি যে, চলতি বছরের শেষ দিক থেকেই এই বিশাল সহায়তা কর্মসূচিটি আর কার্যকর থাকবে না এবং এর চিরস্থায়ী পরিসমাপ্তি ঘটবে।”

 

হঠাৎ করে কেন এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী, ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, এমন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী অথচ তাৎপর্যপূর্ণ উত্তর দেন।

 

তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েলের এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল আর্থিক সহায়তার কোনো ধরনের প্রয়োজন নেই। তার মতে, ইসরায়েল বর্তমানে সামরিক, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এতটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ ও শক্তিশালী একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে যে, বাইরের কোনো রাষ্ট্রের অনুদানের ওপর তাদের আর নির্ভর করতে হয় না।

 

ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, “কারণ তাদের এটি আর কোনোভাবেই প্রয়োজন নেই। যদি তাদের সত্যি সত্যিই এই সহায়তার প্রয়োজন হতো, তাহলে আমি নিশ্চিতভাবেই বলতাম যে এই সামরিক ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত থাকুক।”

 

তার এই সাবলীল উত্তরের মাধ্যমে মূলত ইসরায়েলের নিজস্ব শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

 

ঐতিহাসিকভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও কৌশলগত মিত্র হিসেবে ইসরায়েলকে সর্বাত্মক সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করে আসছে।

 

মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র তৈরি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই চার বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক সামরিক সহায়তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিসীম।

 

বিভিন্ন প্রাণঘাতী যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করার পাশাপাশি সামরিক গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল অঙ্কের অর্থনৈতিক অনুদান ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী, আধুনিক ও অপরাজেয় একটি বাহিনীতে পরিণত করতে সাহায্য করেছে।

 

কিন্তু ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক ঘোষণার পর দুই দেশের দীর্ঘদিনের এই কৌশলগত সম্পর্কের সমীকরণে এক বিশাল কাঠামোগত পরিবর্তনের সুস্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত তিন বছর ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী, ধ্বংসাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

 

গাজায় ইসরায়েল যে ব্যাপক মাত্রায় সামরিক অভিযান এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তাতে বিপুলসংখ্যক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং এক চরম অমানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এই সুদীর্ঘ সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্র দেশ ইসরায়েলকে সরাসরি অত্যাধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিপুল অর্থ সহায়তা দিয়ে অংশ নিয়েছে বলে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার শিকার হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো, জাতিসংঘ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বারবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা ইসরায়েলকে অন্ধভাবে সামরিক সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

 

অনেকেই মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া সেই প্রচণ্ড কূটনৈতিক চাপ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কারণেই হয়তো শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই বিশাল সামরিক অনুদান চিরতরে বন্ধ করার মতো একটি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

 

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অভাবনীয় ও স্পর্শকাতর ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য জানানো হয়নি।

 

এমনকি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকেও এই চুক্তির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি বা ট্রাম্পের দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। এই রহস্যময় ও দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে ও কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহু প্রশাসন হয়তো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া এবং তাদের নিজস্ব জাতীয় প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে মূল্যায়ন করছে।

 

চার বিলিয়ন ডলারের মতো একটি বিশাল অঙ্কের বিদেশি অনুদান হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেলে ইসরায়েলের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা বাজেট নিশ্চিতভাবেই এক প্রবল চাপের মুখে পড়বে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই অভাবনীয় ঘোষণার একটি সুদূরপ্রসারী ও গভীর প্রভাব রয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ করদাতাদের কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে যখন তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প এমন একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিলেন।

 

মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় ও প্রভাবশালী অংশ দীর্ঘদিন ধরে জোর দাবি জানিয়ে আসছিল যে, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা না করে, বিদেশি কোনো রাষ্ট্রকে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সামরিক অনুদান দেওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে পারে না।

 

ট্রাম্প হয়তো দেশের সাধারণ ভোটারদের সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আবেগকে ধারণ করেই এমন একটি চুক্তিতে উপনীত হয়েছেন, যা তাকে আগামী নির্বাচনগুলোতে বিপুলভাবে রাজনৈতিক সুবিধা প্রদান করতে পারে। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় অর্থ দেশের ভেতরেই রাখার এক নতুন জাতীয়তাবাদী নীতির প্রতিফলন।

 

একই সঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে ঐতিহ্যবাহী ও একচ্ছত্র পররাষ্ট্রনীতি ছিল, তা থেকেও এক ধরনের কৌশলগত পশ্চাদপসরণের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে কীভাবে মূল্যায়ন করে, সেটি এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়।

 

ইসরায়েল যদি যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান ছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে সম্পূর্ণ সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে বাধ্য হয়, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সমরাস্ত্র প্রতিযোগিতায় একটি নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।

 

অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ইসরায়েলের নিজস্ব সমরাস্ত্র রপ্তানি আয় এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, তারা চাইলেই এই চার বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের উৎপাদিত অস্ত্র বিক্রি করে অনায়াসেই পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

 

তবে আর্থিক সক্ষমতা থাকলেও, মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি সমর্থন প্রত্যাহার ইসরায়েলের জন্য একটি বিরাট মানসিক ধাক্কা হিসেবে পরিগণিত হবে। পরিশেষে নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, আগামী বছর থেকে ইসরায়েলকে চার বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক সামরিক অর্থ সহায়তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত সাবলীলভাবে ঘোষণা করেছেন, তা আধুনিক আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে একটি সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

 

এটি কেবল একটি সাধারণ আর্থিক অনুদান বন্ধের বিষয় নয়, বরং এটি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা একটি ঐতিহাসিক ও নিশ্ছিদ্র সামরিক জোটের কাঠামোগত পরিবর্তনের সুস্পষ্ট দলিল। ইসরায়েল এখন নিজেদের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভর করে কীভাবে তাদের ভবিষ্যৎ জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশে নিজেদের কীভাবে টিকিয়ে রাখে, তা ভবিষ্যৎ ইতিহাসের পাতায় নির্ধারিত হবে।

 

এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি নিঃসন্দেহে আগামী বেশ কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক কূটনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে থাকবে।

 

- ফক্স নিউজ