শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাইজেরিয়ায় এক বছরে ১৩ হাজার সন্ত্রাসী নিহত, প্রেসিডেন্ট

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

নাইজেরিয়ায় এক বছরে ১৩ হাজার সন্ত্রাসী নিহত, প্রেসিডেন্ট
ছবি : Collected

নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী গত এক বছরের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ১৩ হাজারের বেশি সন্ত্রাসীকে চিরতরে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ টিনুবু।

 

দেশজুড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের অব্যাহত প্রাণঘাতী হামলা এবং মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের মতো চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে এই অভাবনীয় সফলতার দাবি করা হলো।

 

শুক্রবার কাতারভিত্তিক স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিস্তারিত ও তথ্যবহুল প্রতিবেদনে নাইজেরিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির এই সার্বিক চিত্রটি তুলে ধরা হয়েছে।

 

আফ্রিকার অন্যতম জনবহুল দেশটিতে দীর্ঘ সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯৯ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক অর্জনকে স্মরণ করে দেশব্যাপী পালিত হয় ‘গণতন্ত্র দিবস’।

 

এই বিশেষ দিবস উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক ভাষণে প্রেসিডেন্ট টিনুবু দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেন। দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ওই ভাষণে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালে তাঁর সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তাবাহিনীর প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ৮১ শতাংশ কমে এসেছে।

 

একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানান, সরকারের অত্যন্ত যুগান্তকারী ‘অপারেশন সেফ করিডোর’ নামের কর্মসূচির আওতায় ২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ চব্বিশ হাজার সন্ত্রাসী স্বেচ্ছায় নিজেদের অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ গ্রহণ করেছে।

 

মূলত এই বিশেষ ও সংবেদনশীল কর্মসূচির মাধ্যমে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণকারী সন্ত্রাসীদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে।

 

তবে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন আশাব্যঞ্জক পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হলেও, দেশটির বাস্তব পরিস্থিতি এখনও বেশ উদ্বেগজনক। আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত নাইজেরিয়া বর্তমানে এক চরম এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

 

আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটিতে একদিকে আল কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেটের মতো বৈশ্বিক চরমপন্থি সংগঠনগুলোর স্থানীয় শাখাগুলোর ধ্বংসাত্মক তৎপরতা রয়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র নিরীহ মানুষকে মুক্তিপণের দাবিতে নিয়মিত অপহরণ করে চলেছে।

 

দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল স্থান, যেমন- বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়, গির্জা ও মসজিদগুলো বর্তমানে এই নির্দয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আগে নাইজেরিয়ায় এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম মূলত দেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু নির্দিষ্ট এলাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কৌশলগত পরিবর্তন বেশ উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে।

 

সন্ত্রাসীরা এখন দেশের দক্ষিণাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ও দুর্গম ঘন বনাঞ্চলগুলোকে নিজেদের নতুন ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে নতুন উদ্যমে চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে শুরু করেছে।

 

দেশটির সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর ক্রমাগত ও জোরালো সাঁড়াশি অভিযানের মুখে টিকতে না পেরে এই অপরাধী গোষ্ঠীগুলো বাধ্য হয়ে তাদের পুরোনো আস্তানা ছেড়ে নতুন দুর্গম এলাকাগুলোতে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি স্থাপন করছে।

 

এর ফলে পুরো দেশ জুড়েই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

 

- আল জাজিরা