বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের হয়ে যুদ্ধে নামতে পারত চীন, রাশিয়া ও তুরস্ক, আমার হস্তক্ষেপেই তারা নিবৃত্ত

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম

ইরানের হয়ে যুদ্ধে নামতে পারত চীন, রাশিয়া ও তুরস্ক, আমার হস্তক্ষেপেই তারা নিবৃত্ত
ছবি : Collected

মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি সম্ভাব্য ও ভয়াবহ বৈশ্বিক সংঘাত এড়ানোর একক কৃতিত্ব দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল বিশ্বের অন্যতম তিন পরাশক্তি রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের।

 

তবে তিনি দাবি করেন, তার ব্যক্তিগত, সময়োপযোগী ও সফল কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণেই মূলত এই প্রভাবশালী দেশগুলো এই সংঘাত থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ দূরে রেখেছে। এই তিনটি শক্তিশালী দেশের যুদ্ধে না জড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে তিনি আন্তর্জাতিক কূটনীতির ইতিহাসে এক অভাবনীয়, বিরল ও চমকপ্রদ ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

 

একই সঙ্গে তিনি দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরপেক্ষ ও দূরদর্শী অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময়কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী ও অত্যন্ত জটিল সংঘাতের সময়ে তার নিজস্ব কূটনৈতিক তৎপরতার কথা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জনসমক্ষে তুলে ধরেন।

 

তিনি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিষয়টি এবং পর্দার আড়ালের কূটনীতির সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই চরম সংকটময় মুহূর্তে চীন, রাশিয়া ও তুরস্কের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান মূলত সমগ্র বিশ্বকে একটি বৃহত্তর এবং ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করেছে।

 

এই দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সামরিক দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা এবং সংযত আচরণের কারণে তিনি তাদের নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ সম্মান ও গভীর মূল্যায়ন জ্ঞাপন করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা তাসের একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তুরস্কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমেই দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, এই যুদ্ধে ইরানের পক্ষে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় বা প্রধান দাবিদার হতে পারত তুরস্ক।

 

ট্রাম্প বলেন, এরদোয়ান এই যুদ্ধ থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে রেখেছিলেন, যা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। কারণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সবাই খুব ভালোভাবে জানেন যে, ইসরায়েলের প্রতি তুরস্কের নেতার দৃষ্টিভঙ্গি খুব একটা ইতিবাচক নয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তার নিজস্ব প্রভাব রয়েছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এরদোয়ানকে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেকে দূরে থাকার জন্য বিশেষ ও আন্তরিক অনুরোধ করেছিলেন এবং তুরস্কের নেতা অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে তার সেই অনুরোধ রক্ষা করেছেন। ট্রাম্প তাকে একজন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং চমৎকার সামরিক দূরদর্শিতাসম্পন্ন বিশ্বনেতা হিসেবেও অভিহিত করেন।

 

তুরস্কের পাশাপাশি এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ পরাশক্তি চীনের রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতিও নিজের গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অত্যন্ত কার্যকর ও দুর্দান্ত ভূমিকার কথা তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন।

 

ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং চাইলে খুব সহজেই এই যুদ্ধে অংশ নিতে পারতেন। এর পেছনে একটি বিশাল ও যৌক্তিক কারণ ছিল। আর তা হলো চীনের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় অর্ধেক অংশই মধ্যপ্রাচ্যের ওই সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে আমদানি করা হয়।

 

ফলে ওই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে চীনের অর্থনীতি সরাসরি হুমকির মুখে পড়ত। ট্রাম্প জানান, তিনি চীনের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে তাকে এই যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই দূরদর্শী অনুরোধে সাড়া দিয়ে শি জিনপিংও তার দেশকে এই সংঘাত থেকে পুরোপুরি সরিয়ে রাখেন। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম মূল খেলোয়াড় রুশ ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে, রাশিয়ার শক্তিশালী সামরিক বাহিনীও এই ভয়াবহ সংঘাত থেকে সম্পূর্ণ বাইরে অবস্থান করেছিল।

 

মস্কোর বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানের বিষয়টি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, পুতিনও সচেতনভাবে এই যুদ্ধ থেকে দূরে ছিলেন। তবে পরিস্থিতি যদি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হয়, তবে এটি স্বীকার করতেই হবে যে ভ্লাদিমির পুতিনের এই মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়ার মতো আরও বেশ কিছু নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয় রয়েছে।

 

এসব কারণে তিনি নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো বৈশ্বিক সংঘাতে জড়াতে চাননি। পরিশেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত সন্তুষ্টির সঙ্গে বলেন, আলোচনার মূল কথা হলো বিশ্বের এই শীর্ষ পরাশক্তিগুলো সবাই এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ থেকে পুরোপুরি বাইরে অবস্থান করেছিল, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সত্যিই বেশ দারুণ এবং অত্যন্ত আশ্চর্যজনক একটি বিষয়।

 

তার মতে, পরাশক্তিগুলোর এই নিরপেক্ষতাই মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা করেছে এবং এর ফলে একটি সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাতের শঙ্কাও আপাতত দূরীভূত হয়েছে। বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখতে এই ধরনের ব্যক্তিগত কূটনীতি যে কতখানি কার্যকর, তা তার এই সফল পদক্ষেপের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

- তাস