৩১ বছর বয়সী কার্লোস এদোয়ার্দো নামের এক যুবক ভূমিকম্পের পর থেকে কংক্রিটের স্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধারের আশায় গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে ধ্বংসস্তূপের সামনে প্রহর গুনছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। উদ্ধার অভিযানের এই হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য বিশ্বজুড়ে শোক ও সহমর্মিতার ঢেউ তুলেছে।
কার্লোস এদোয়ার্দোর চাচাত ভাই সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই মুহূর্তের আবেগঘন বর্ণনা দেন। তিনি জানান, প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ক্ষীণ গোঙানির শব্দ শুনতে পান তারা।
যদিও ওই শব্দের পর কার্লোস আর কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি বা কথা বলার মতো অবস্থায় নেই, তবুও এই সামান্য শব্দটুকুই তাঁর পরিবারের কাছে বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আসা এই অস্পষ্ট আর্তনাদই বলে দিচ্ছে, চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি হার মানেননি, হয়তো এখনো বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে সেখানে স্পেন থেকে আসা একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল যোগ দিয়েছিল। প্রশিক্ষিত কুকুর ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে তারা ধসে পড়া ভবনটিতে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালায়।
তবে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, উদ্ধারকারী দলটির প্রযুক্তিগত সরঞ্জামে কার্লোস এদোয়ার্দোর প্রাণের কোনো স্পন্দন ধরা পড়েনি। এরপর উদ্ধারকারী দল সেখান থেকে চলে গেলেও, পরিবারের সদস্যরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীদের ব্যর্থতার পর এখন কার্লোসের পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন উদ্ধারের কাজে। কোনো ভারী যন্ত্রপাতি বা অত্যাধুনিক সরঞ্জামের অপেক্ষা না করে, তারা নিজেদের খালি হাতেই সরানোর চেষ্টা করছেন ধ্বংসস্তূপের বিশাল কংক্রিটের চাঁই।
ধুলোবালি ও ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে স্বজনদের এই আর্তনাদ ও পরিশ্রম এক মানবিক বিপর্যয়ের চরম বাস্তবতাকে তুলে ধরছে। কার্লোসকে জীবিত উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনার অদম্য জেদ নিয়ে এখনো অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতায় আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন কারাকাসের এই ধ্বংসস্তূপের ওপর। ভূমিকম্পের পর থেকে দেশটিতে উদ্ধারকাজে ধীরগতি ও সরঞ্জামের অভাব নিয়ে সমালোচনা থাকলেও, সাধারণ মানুষের এই অসীম সাহসিকতা ও পরিবারের ভালোবাসা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পাওয়া সেই গোঙানির শব্দ কি আসলেই কার্লোস এদোয়ার্দোর বেঁচে ফেরার দীর্ঘশ্বাস, নাকি প্রকৃতির নিষ্ঠুরতার এক অন্তিম সুর-তা জানতে এখনো সময়ের অপেক্ষা। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচে কার্লোসের নিশ্বাস পাওয়ার ক্ষীণতম আশা অবশিষ্ট আছে, ততক্ষণ তাঁর স্বজনদের এই লড়াই চলবে বলেই বিশ্বাস স্থানীয়দের। এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দ্রুত আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।