সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬
১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্প ইরানে হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করেছেন- স্যান্ডার্স

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬, ০১:২১ পিএম

ট্রাম্প ইরানে হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করেছেন- স্যান্ডার্স
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক সামরিক কৌশল নিয়ে আবারও এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের প্রবীণ ও প্রভাবশালী স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এক নীতি-নির্ধারণী বক্তৃতায় দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন।

 

তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ট্রাম্পের পূর্ববর্তী আন্তর্জাতিক নীতি এবং বর্তমান যুদ্ধংদেহী মনোভাবের নিন্দা জ্ঞাপন করেন। সিনেটর স্যান্ডার্স অভিযোগ করেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে এমন এক ধ্বংসাত্মক ও অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক সংঘাতের সূচনা করেছিলেন, যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে হাজার হাজার সম্পূর্ণ নিরপরাধ সাধারণ পুরুষ, নারী এবং শিশুর নির্মম মৃত্যু হয়েছে।

 

বিশ্ব রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ও অনৈতিক ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে দেওয়া তার এই সাহসী ও স্পষ্ট বক্তব্য ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

 

ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে এই প্রবীণ মার্কিন সিনেটরের বক্তব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করেছে। ভারমন্টের এই জনপ্রিয় প্রবীণ রাজনীতিক তার ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদাকে উপেক্ষা করে সামরিক খাতের লাগামহীন বাজেট বৃদ্ধির কঠোর বিরোধিতা করেন।

 

তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান যে, ট্রাম্প প্রশাসন দেশের সামরিক বাজেটে অতিরিক্ত আরও ৫০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করার যে আত্মঘাতী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা সাধারণ মার্কিন জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কোনো প্রকার অগ্রাধিকারযোগ্য বিষয় বা কল্যাণকর পদক্ষেপের মধ্যে পড়ে না।

 

যেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আমূল সংস্কার প্রয়োজন, সেখানে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কেবল যুদ্ধাস্ত্র ও সামরিক আধিপত্য বিস্তারের পেছনে অপচয় করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

 

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া পুরনো প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স মার্কিন নেতৃত্বের চরম ভণ্ডামির দিকটি জনসাধারণের সামনে উন্মোচন করেন।

 

তিনি বলেন, ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণাকালে ভোটারদের সামনে অত্যন্ত জোরালোভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে থাকা সব ধরনের অন্তহীন ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চিরতরে শেষ করার এক সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণের পর তিনি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থান গ্রহণ করেন।

 

ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে এমন এক ভয়াবহ সংঘাত ও ছদ্মবেশী যুদ্ধের জন্ম দেয়, যার মাশুল দিতে হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের হাজার হাজার নিরপরাধ বেসামরিক মানুষকে। এই ভ্রান্ত ও আগ্রাসী নীতির কারণে অগণিত পরিবারের শান্তি ও স্থিতিশীলতা চিরতরে বিনষ্ট হয়ে গেছে।

 

নিজের ভাষণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির একটি সম্পূর্ণ বিকল্প ও মানবিক রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন এই প্রবীণ প্রগতিশীল সিনেটর। তিনি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনৈতিক এবং সম্পূর্ণ অকার্যকর মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পাশাপাশি বছরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বিপুল পরিমাণ সামরিক বাজেটেরও দ্রুত ও স্থায়ী অবসান ঘটানোর দাবি জানান।

 

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আধিপত্য বজায় রাখার নামে এই ধরনের অন্তহীন ও অর্থহীন যুদ্ধে আমেরিকার করদাতাদের আর একটি ডলারও খরচ করতে দেওয়া হবে না। এই অপচয় বন্ধ করে দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনে সেই অর্থ ব্যয় করা সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি।

 

একই সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র রাষ্ট্র ইসরায়েলের বর্তমান উগ্র ডানপন্থী সরকারের সমালোচনা করতেও একচুল পিছপা হননি বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বর্তমান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পুরো মন্ত্রিসভাকে আক্ষরিক অর্থেই একটি চরম গণহত্যামূলক ও অমানবিক মন্ত্রিসভা বলে অভিহিত করেছেন।

 

তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মানবিক বিপর্যয় এবং নিরীহ মানুষের ওপর চালানো বর্বরতার প্রধান পৃষ্ঠপোষক নেতানিয়াহুর এই যুদ্ধংদেহী সরকারের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আর কোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা সামরিক সহায়তা দেওয়া সমীচীন হবে না।

 

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই গণহত্যাকামী সরকারের পেছনে শত শত কোটি ডলারের আর্থিক ও অন্ধ সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করার জন্য তিনি মার্কিন নীতিনির্ধারকদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বার্নি স্যান্ডার্সের এই আপসহীন অবস্থান আগামী দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচন ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এক গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

 

- পার্সটুডে