সোমবার কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৈশ্বিক বাজারে তেলের এই মূল্য হ্রাসের জন্য মূলত ইরানের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ইতিবাচক প্রভাবকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনার পর দুই দেশের মধ্যকার এই চুক্তি ও সমঝোতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা।
সোমবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন যে, ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক রূপ নেওয়ার আগের সময়টার তুলনায় বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক বেশি হ্রাস পেয়েছে এবং তা এখন সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বেশ সাশ্রয়ী।
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ তুলে ধরে পৃথক আরেকটি পোস্টে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লেখেন যে, বিশ্বজুড়ে সামগ্রিকভাবে জ্বালানির দাম এখন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে কমছে। একই সঙ্গে এই পোস্টে তিনি নিজের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও দেশে তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার বিষয়টিও বেশ গর্বের সাথে সামনে নিয়ে এসেছেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, এই সময়োচিত ও সফল কূটনৈতিক সাফল্যের পর মার্কিন জনগণের মাঝে তাঁর কাজের অনুমোদন বা রেটিং এখন এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী পর্যায়ে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পণ্য বাজারের সর্বশেষ লেনদেনের পরিসংখ্যান নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবির যৌক্তিকতা ও বাস্তব চিত্রটি বেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সোমবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের প্রতি ব্যারেল তেল সর্বমোট ৭৩ ডলারে বেচাবিক্রি হতে দেখা গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে বেশ কম।
একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার নির্দেশক ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের প্রতি ব্যারেল তেলের মূল্য ছিল মাত্র ৬৯ ডলার। বাজার বিশেষজ্ঞদের আনুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক সংঘাত ও ছদ্মবেশী যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই বর্তমান মূল্য প্রায় ১৫ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার এক স্পষ্ট ও দৃশ্যমান নির্দেশ করে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার এক বিশাল শঙ্কা তৈরি করেছিল।
কিন্তু সুইজারল্যান্ড ও কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় উভয় পক্ষ একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এই চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর থেকে আংশিকভাবে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পুরো ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে নিজের সফল পররাষ্ট্রনীতির একটি অনন্য ফসল হিসেবে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করছেন, যা আগামী দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাঁর অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে পারে।