সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া এই ঐতিহাসিক ও আবেগঘন ভাষণে তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি এক জোরালো ও সময়োপযোগী আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দেওয়া তার এই শেষ ভাষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ, বিশ্বজুড়ে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোর অবসান, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সমগ্র বিশ্ব যখন নানামুখী সংকটে জর্জরিত, ঠিক সেই মুহূর্তে বিশ্বনেতাদের চরম সতর্ক করে দিয়ে তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে গিয়ে জাতিসংঘ রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।
পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করা আন্তোনিও গুতেরেস আগামী ৩১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে তার দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ পাঁচ বছর, অর্থাৎ এক দশকের দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল নেতৃত্বের পূর্ণতা টানতে যাচ্ছেন।
এমন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের সম্ভাব্য মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি ঠিক এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে এই বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানালেন, যখন জাতিসংঘের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট অত্যন্ত ক্ষমতাধর নিরাপত্তা পরিষদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিংয়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
নিউইয়র্কে এবারের অধিবেশনে বিশ্বের প্রায় ১৩০ জন শীর্ষ নেতা সমবেত হলেও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক ধরনের বিভাজনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কারণ, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও জার্মানির মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমাবেশ সযত্নে এড়িয়ে গেছেন।
গুতেরেস তার সুচিন্তিত বক্তব্যে সংস্থাটির ভেতরের এই দৃশ্যমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার দূরত্বের নেতিবাচক চিত্রটিও অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। নিজের এক দশকের বর্ণাঢ্য কর্মময় মেয়াদে যেসব বৈশ্বিক সংকট সমাধানে ও নীতিগত উদ্যোগে তিনি সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন, বিদায়ী ভাষণেও সেগুলোর ওপর তিনি পুনরায় সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংকট সমাধানের পথ হিসেবে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি স্বাধীন ও কার্যকর দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে তিনি তার অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের জন্য যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি দায়ী, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যুগোপযোগী ও আমূল সংস্কারের পক্ষে অত্যন্ত জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন তিনি।
তার এই সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বক্তব্যগুলো সাধারণ পরিষদে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং তারা স্বতঃস্ফূর্ত করতালি প্রদানের মাধ্যমে মহাসচিবের এই প্রস্তাবনাগুলোর প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
মূলত এই ভাষণের মধ্য দিয়েই গুতেরেসের এক দশকের বৈশ্বিক নেতৃত্বের একপ্রকার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। তার এই দীর্ঘ মেয়াদের সময়কালটি ছিল বৈশ্বিক কূটনীতির জন্য এক চরম পরীক্ষার সময়।
এই এক দশকে তিনি একদিকে যেমন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘকে একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নিরলস চেষ্টা চালিয়েছেন, অন্যদিকে তেমনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি পরিচালনার একটি প্রধান ও নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক মঞ্চ হিসেবে এই সংস্থাটিকে গড়ে তুলতে চেয়েছেন।
যদিও তার এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। বিশ্বের অনেক পরাশক্তি তাদের নিজস্ব ভূরাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন সময় জাতিসংঘকে এড়িয়ে নিজেদের মতো করে কাজ পরিচালনা করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন থেকে নিয়মিতভাবে জাতিসংঘের তহবিলে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে, যা সংস্থাটির সার্বিক কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে।
সাধারণ পরিষদের মূল মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে গুতেরেস অত্যন্ত দৃঢ়কণ্ঠে বলেন যে, বর্তমান বিশ্বে যে অভাবনীয় প্রযুক্তিগত বিপ্লব সাধিত হচ্ছে, তাতে যেসব দেশ নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাদের অবশ্যই নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্যগুলো পরস্পরের মাঝে বিনিময় করতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষা ও এর সার্বিক মূল্যায়নে বৈশ্বিক পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি সতর্ক করে দেন। সমগ্র মানবজাতির সুরক্ষায় একটি একক, সর্বজনীন ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে বিশ্বকে এখনই হাঁটতে হবে।
তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে দায়িত্বশীল গতি বজায় রাখা এবং এর মাধ্যমে সৃষ্ট নতুন যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে বিশ্বনেতাদেরই সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে।
স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য তদারকির মাধ্যমে একটি বহুপাক্ষিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করার ওপর তিনি সবচেয়ে বেশি জোরারোপ করেন। এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণের এই বৈশ্বিক আলোচনার মাঝেই পরাশক্তিগুলোর নিজস্ব কূটনৈতিক তৎপরতার খবরও সামনে এসেছে।
রোববার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে চলতি সপ্তাহে যে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেখানে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ নতুন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে।
বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যকার অত্যন্ত সংবেদনশীল কৌশলগত আলোচনা থেকে উঠে আসা এই নীতিগত প্রস্তাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এমন যেকোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাজনিত দুর্ঘটনা বা বিপর্যয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণের পক্ষে আন্তোনিও গুতেরেস দীর্ঘ সময় ধরেই অত্যন্ত সোচ্চার ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০২৩ সালে মূলত তার ঐকান্তিক উদ্যোগেই ৩৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক বৈশ্বিক উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়।
এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও জাপানের মতো প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর দেশগুলোর শীর্ষ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, সরকারি নীতিনির্ধারক ও খ্যাতিমান শিক্ষাবিদরা যুক্ত হন। ওই একই বছর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি ও নিরাপত্তা নিয়ে ইতিহাসের প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসে।
সেই ঐতিহাসিক বৈঠকে চীন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল যে, এই আধুনিক প্রযুক্তিকে কোনোভাবেই লাগামহীন ও নিয়ন্ত্রণহীন ঘোড়া হতে দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের কোনো প্রান্তে মানুষকে দমন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জোরালো সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছিল।
সমসাময়িক ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি গুতেরেসের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই সংকটের প্রসঙ্গ টেনে মহাসচিব বলেন, লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রগতির ফলে ওই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন রুট মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে এবং একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চরম সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই সংঘাত যাতে গোটা মধ্যপ্রাচ্য বা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তা ঠেকাতে তিনি দ্রুত উত্তেজনা হ্রাস এবং অবিলম্বে সব পক্ষের মধ্যে গঠনমূলক কূটনৈতিক আলোচনার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেন।
তিনি বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, জাতিসংঘের এই ঐতিহাসিক হল রুম থেকে আমরা সবাই মিলে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে একটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা পাঠাই, আর তা হলো-যেকোনো মূল্যে চলমান যুদ্ধ এখনই থামাতে হবে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে আটকে পড়া সাধারণ মানুষের জন্য জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ সম্পূর্ণ সুগম করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি মেনে বিশ্বের প্রতিটি জলপথে নৌচলাচলের অবাধ ও স্বাধীন অধিকার পুরোপুরি ফিরিয়ে দিতে হবে।
জাতিসংঘের বর্তমান কার্যকারিতা এবং এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে সমালোচনা রয়েছে, গুতেরেস তার ভাষণে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে সেটিরও জবাব দিয়েছেন। অতীতে জাতিসংঘের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া এবং অর্থায়ন ব্যাপক হারে হ্রাস করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বের অনেক কট্টর সমালোচক বিভিন্ন সময় জাতিসংঘকে একটি অপ্রয়োজনীয় ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এই তীব্র সমালোচনার সরাসরি জবাবে গুতেরেস অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠভাবে বলেন যে, বিশ্বজুড়ে আমাদের সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের যে প্রক্রিয়াগুলো রয়েছে, সেগুলো বর্তমানে চরম ভূরাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে।
আমাদের বৈশ্বিক সংস্থাগুলো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও অতীতের পুরোনো ক্ষমতার বাস্তবতা ও সংকীর্ণ জাতীয় স্বার্থকে ধারণ করে চলেছে, যা বর্তমান বহুমুখী বৈশ্বিক সংকটের সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশ্বব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে এই সেকেলে কাঠামোর আশু পরিবর্তন অপরিহার্য।
ভাষণের একেবারে শেষভাগে এসে গুতেরেস গত দশ বছর ধরে তার পাশে থাকা এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার চেষ্টার সঙ্গী হওয়া বিশ্বের সব নেতার প্রতি গভীর ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে বিদায় নেওয়ার এই মুহূর্তে অত্যন্ত আবেগঘন ও কম্পিত কণ্ঠে তিনি সমগ্র বিশ্ববাসীর উদ্দেশে বলেন, আগামী ১ জানুয়ারি যখন আমি আর এই বৈশ্বিক সংস্থাটির মহাসচিব পদে থাকব না, তখন আপনারা অন্তত একটি বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত থাকতে পারেন।
আর সেটি হলো-আমি পৃথিবীর যেখানেই থাকি না কেন এবং ব্যক্তিজীবনে আমি যাই করি না কেন; সংঘাতময় এই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যে বাস্তবিকপক্ষেই সম্ভব, আমার ভেতরের সেই অবিচল বিশ্বাসের পক্ষে আমি আজীবন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে লড়ে যাব।
আমি জাতিসংঘের সনদের মূল মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও বৈশ্বিক সাম্যের পক্ষে সবসময় কাজ করে যাব এবং আমি কখনোই, পৃথিবীর কোনো কঠিন অবস্থাতেই এই মানবিক লড়াই থেকে হাল ছাড়ব না। পরিশেষে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তার ঐতিহাসিক বিদায়ী ভাষণ সমাপ্ত করেন।