আদালতের নির্দেশে শনিবার ভোরে ফেডারেল পুলিশ এজেন্টরা তাঁর বাসভবনে অভিযান চালায় এবং তাঁকে হেফাজতে নিয়ে রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় পুলিশ সদর দপ্তরে স্থানান্তর করে। এই ঘটনা ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। এই গ্রেফতারের মূল কারণ হিসেবে তাঁর গোড়ালিতে পরানো ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিং মনিটর বা ‘অ্যাঙ্কেল মনিটর’ বিকল করার প্রচেষ্টাকে দায়ী করা হয়েছে।
পুলিশি হেফাজতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলসোনারো স্বীকার করেছেন যে, তিনি একটি ‘সোল্ডারিং আয়রন’ বা ঝালাই যন্ত্র ব্যবহার করে ট্র্যাকারটি খোলার চেষ্টা করেছিলেন, তবে সেটি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পর্যালোচনা করা আদালতের একটি ভিডিও ফুটেজে ট্র্যাকারটিতে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে।
৭০ বছর বয়সী বলসোনারোকে ‘পলায়ন ঝুঁকি’ বা ফ্লাইট রিস্ক হিসেবে বিবেচনা করে আগেই এই ট্র্যাকিং ডিভাইস পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে ডি মোরায়েস, যিনি বলসোনারোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার মামলাটি পরিচালনা করছেন, এই আগাম গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শনিবার বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো বাবার সমর্থনে যে জনসমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন, তা মূলত এই পলায়ন পরিকল্পনারই অংশ ছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছিল, সমাবেশের কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে আশ্রয় নিতে পারেন, যা তাঁর বাসস্থান থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার বা ১৫ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত।
এর আগে আর্জেন্টিনায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার বিষয়েও তাঁর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গিয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরে অভ্যুত্থান প্ররোচনা, সশস্ত্র অপরাধী সংগঠন পরিচালনা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের চেষ্টার দায়ে বলসোনারোকে ২৭ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আপিল প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী সপ্তাহে তাঁর আনুষ্ঠানিকভাবে সাজা ভোগ শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর আগেই পালানোর ছক কষার অভিযোগে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হলো।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তাঁর অভ্যুত্থান পরিকল্পনায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা এবং বিচারপতি মোরায়েসকে হত্যার ষড়যন্ত্রও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বলসোনারোর গ্রেফতারের খবরে ব্রাজিলে চরম বিভক্তি ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাঁর বিরোধী পক্ষ কারাগারের বাইরে শ্যাম্পেন খুলে উল্লাস প্রকাশ করেছে এবং অনলাইন ও অফলাইনে উৎসবের আয়োজন করেছে।
অন্যদিকে, তাঁর সমর্থকরা পুলিশ সদর দপ্তরের বাইরে জড়ো হয়ে হর্ন বাজিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি বলসোনারোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত, এই ঘটনায় সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বলসোনারোর আইনজীবীরা দাবি করেছেন, কোনো পালানোর চেষ্টা নয়, বরং ধর্মীয় সমাবেশের প্রস্তুতি চলছিল। তবে আদালত তাঁর ছেলের উসকানিমূলক বক্তব্য এবং ট্র্যাকার খোলার চেষ্টাকে গণতন্ত্র ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি চরম অবজ্ঞা হিসেবেই দেখছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির প্যানেলে এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটি হবে।