দেশটির অন্যতম প্রধান সংবাদমাধ্যম ‘নোটিসিয়াস কারাকোল’ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দাবি করে যে, ফার্কের ভিন্নমতাবলম্বী অংশটি ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেট (ডিএনআই) এবং সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের চব্বিশ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল তদন্তের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন।
সোমবার রাতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সংঘবদ্ধ অপরাধ বিরোধী বিশেষ প্রতিনিধি দল অবিলম্বে এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবে। তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি, নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অর্থায়ন, অপরাধী চক্রের সঙ্গে মৈত্রী এবং নিরাপত্তা সংস্থা গড়ে তোলার আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা।
জব্দকৃত নথিপত্রে নাম উঠে আসায় সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুয়ান মিগুয়েল হুয়ের্তাস হেরেরার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রসিকিউটর ইউনিটে ইতিমধ্যেই নথিপত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। এই তদন্তের সূত্রপাত মূলত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে উত্তর-পূর্ব অ্যান্টিওকিয়ার আনোরি পৌরসভায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা থেকে।
সে সময় সেনাবাহিনীর একটি চেকপয়েন্টে ন্যাশনাল প্রোটেকশন ইউনিটের (ইউএনপি) যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে ফার্কের ভিন্নমতাবলম্বী নেতাদের আটক করা হয়। ওই বহরে আলেক্সান্ডার দিয়াজ মেন্ডোজা ওরফে কালারকা এবং এডগার ডি জেসুস ওর্তেগা ওরফে ফিরু-সহ বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী নেতা ছিলেন। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে কম্পিউটার, হার্ড ড্রাইভ এবং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছিল।
আইন অনুযায়ী শান্তি আলোচনার স্বার্থে কালারকা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও, জব্দকৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলো থেকেই বর্তমানের এই বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জব্দকৃত ডিভাইসগুলো পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা ডিআইজিনের হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এর ভেতরের তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হলো, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর।
বিবৃতিতে একে ফৌজদারি কার্যবিধির গোপনীয়তা নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, গত ১৬ মাসে জব্দকৃত আলামত থেকে পাওয়া তথ্যের বিষয়ে ওপর মহলে কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। অধস্তন প্রসিকিউটররা স্বাধীনভাবে কাজ করায় কেন্দ্রীয় দপ্তর এ বিষয়ে অন্ধকারে ছিল। বর্তমানে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিরাপত্তার স্বার্থে এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের মুখোশ উন্মোচনে বিচার বিভাগ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।