বোগোটার সুপিরিয়র কোর্টে আলভারো লেভার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য একটি আবেদন জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন বিভাগ। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন লেভা পাসপোর্ট সরবরাহ, ব্যক্তিগতকরণ এবং বিতরণের টেন্ডার বা দরপত্র প্রক্রিয়ায় বেআইনিভাবে হস্তক্ষেপ করেছিলেন।
প্রসিকিউশন দাবি করেছে, তিনি তৎকালীন সময়ে যেসব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেগুলো ছিল সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত এবং সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো ‘প্রিভ্যারিকেশন’ বা সরকারি দায়িত্ব পালনে ছলচাতুরী ও ক্ষমতার অপব্যবহার। প্রসিকিউটর অফিসের মতে, সাবেক এই মন্ত্রীর নেওয়া পদক্ষেপগুলো সরকারি ঠিকাদারি নীতিমালার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
আলভারো লেভার জন্য এটি নতুন কোনো আইনি জটিলতা নয়; বরং এটি তাঁর বিরুদ্ধে চলমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থার একটি ফৌজদারি সংযোজন। ২০২৩ সালে পাসপোর্ট টেন্ডার প্রক্রিয়াটি ‘অকার্যকর’ বা বাতিল ঘোষণা করার জেরে সৃষ্ট জটিলতার কারণে আগেই তাঁকে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং আগামী ১০ বছরের জন্য যেকোনো সরকারি পদে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, লেভার সেই টেন্ডার বাতিলের সিদ্ধান্তটির পেছনে কোনো শক্ত আইনি ভিত্তি ছিল না এবং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। তৎকালীন সময়ে লেভা যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, টেন্ডারে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান-‘টমাস গ্রেগ অ্যান্ড সন্স’-অংশগ্রহণ করায় সেখানে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার অভাব ছিল। তবে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, ওই প্রতিষ্ঠানটি টেন্ডারের সব শর্ত ও যোগ্যতা মেনেই প্রস্তাব জমা দিয়েছিল।
তা সত্ত্বেও প্রক্রিয়াটি বাতিল করায় পাসপোর্ট ইস্যু করার সামগ্রিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত কলম্বিয়ান নাগরিকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ এবং ‘ইচ্ছাকৃত অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে, যা রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা, মিতব্যয়িতা এবং জবাবদিহিতার নীতিকে সরাসরি লঙ্ঘন করেছে।
শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দেওয়া ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা বর্তমানে বহাল রয়েছে। এর পাশাপাশি এখন শুরু হতে যাচ্ছে ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া। আদালত শীঘ্রই এই অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবে, যার ওপর নির্ভর করছে সাবেক এই প্রভাবশালী কূটনীতিকের ভবিষ্যৎ।