মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদুরো আটকের পর শান্তির বার্তা, ভেনেজুয়েলায় মুক্তি পেলেন শীর্ষ বিরোধী নেতা ও কর্মীরা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম

মাদুরো আটকের পর শান্তির বার্তা, ভেনেজুয়েলায় মুক্তি পেলেন শীর্ষ বিরোধী নেতা ও কর্মীরা
ছবি: AP

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নাটকীয় পরিবর্তনের সাক্ষী হলো বিশ্ব। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরেই দেশটির কারাভ্যন্তর থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে একাধিক হাই-প্রোফাইল বিরোধী দলীয় নেতা, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীকে। কারাকাসের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই পদক্ষেপকে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সদিচ্ছা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

 

বৃহস্পতিবার দেশটির কারাগারগুলো থেকে বিরোধী মতের এসব বিশিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া শুরু হয়, যা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে। ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরকারের প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্প বলেন, "তারা চমৎকার কাজ করছেন। আমরা যা চেয়েছিলাম, তারা আমাদের তার সবই দিয়েছেন।"

 

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের ভাই এবং ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ ঘোষণা করেছেন যে, সরকার একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বন্দীকে মুক্তি দেবে। তিনি বলেন, "ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে একে একটি সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করুন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।" দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলগুলো আটক রাজনীতিবিদ, সমালোচক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিল।

 

মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন কারাগারের সামনে ভিড় করতে শুরু করেন বন্দীদের উদ্বিগ্ন স্বজনরা। অপেক্ষমাণ পরিবারগুলোর মধ্যে ছিল উৎকণ্ঠা আর প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আকুলতা। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বিয়াজিও পিলিয়েরি, যিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোর ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম নীতিনির্ধারক ছিলেন। এছাড়াও মুক্তি পেয়েছেন ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী এবং সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা এনরিকে মার্কেজ।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পর মার্কেজ ও পিলিয়েরি রাস্তায় অপেক্ষমাণ জনতা ও স্বজনদের সঙ্গে আবেঘন আলিঙ্গনে আবদ্ধ হচ্ছেন। শুধু স্থানীয় রাজনীতিবিদরাই নন, বৃহস্পতিবার বিকেলে মুক্তি পেয়েছেন পাঁচজন স্প্যানিশ নাগরিকও। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভেনেজুয়েলান-স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মী রোসিও সান মিগুয়েল। তাঁর মুক্তি আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

 

বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত আরও অনেক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে। অতীতেও ভেনেজুয়েলা সরকার উত্তেজনার সময়ে আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত হিসেবে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করেছে, যদিও কারাকাস বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা রাজনৈতিক কারণে কাউকে বন্দী করে রাখে না।

 

বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত ঠিক কতজন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বা আরও কতজন মুক্তি পেতে পারেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে নিকোলাস মাদুরোর আটকের পর দেশটির নতুন নেতৃত্বের এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

 

- Euro News