ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো তাঁর নোবেল পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাঁকে পুরস্কার না দেওয়ায় এখন ‘লজ্জিত’ বোধ করছে। তিনি বলেন, “মানুষ আমাকে পছন্দ করুক বা না করুক, আমি আটটি বড় বড় যুদ্ধ মিমাংসা করেছি।
এর মধ্যে কোনোটি ৩০-৩৬ বছর ধরে চলছিল, আবার কোনোটি পাকিস্তান ও ভারতের মতো মাত্র শুরু হতে যাচ্ছিল, যেখানে আকাশযুদ্ধে আটটি জেট বিমান ভূপাতিত হয়েছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, কোনো পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার ছাড়াই তিনি খুব দ্রুততম সময়ে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছিলেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নোবেল জয়ের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প কটাক্ষ করে বলেন, “ওবামা নোবেল পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি নিজেই জানতেন না কেন পেয়েছেন।
ইতিহাসে আমার চেয়ে বেশি এই পুরস্কারের যোগ্য আর কেউ নেই। আমি অহংকার করছি না, কিন্তু অন্য কেউ যুদ্ধ থামাতে পারেনি।” ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তাঁকে ফোন করে অবাক হয়ে বলেছিলেন, তিনি ১০ বছর চেষ্টা করেও যে যুদ্ধ থামাতে পারেননি, ট্রাম্প তা সমাধান করেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে গত সেপ্টেম্বরে ওভাল অফিসের বৈঠকের স্মৃতিচারণ করে ট্রাম্প বলেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত থামিয়ে অন্তত এক কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে অধিকৃত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর এক সন্ত্রাসী হামলার জেরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যার দায় ভারত পাকিস্তানের ওপর চাপিয়েছিল এবং ইসলামাবাদ তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল। মে মাসে এক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সেই উত্তেজনার অবসান ঘটে, যার কৃতিত্ব ট্রাম্প বারবার নিজের বলে দাবি করে আসছেন। তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে ভারতের দ্বিমত রয়েছে।
নয়াদিল্লি বরাবরই দাবি করে আসছে যে, যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা প্রশমন কোনো তৃতীয় পক্ষের বা ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে হয়নি। এছাড়া যুদ্ধে ভূপাতিত বিমানের সংখ্যা নিয়েও ট্রাম্পের তথ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে; তিনি শুরুতে ৫টি, পরে ৭টি এবং সর্বশেষ ৮টি বিমান ভূপাতিত হওয়ার কথা বলেছেন। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁকে ‘দুর্দান্ত যোদ্ধা’ ও তাঁর ‘খুব প্রিয়’ ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেন।