রবিবার দুপুরে নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি চট্টগ্রাম ও তার পরিবারের মধ্যকার গভীর আত্মিক সম্পর্কের কথা আবেগঘন কণ্ঠে তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে একটি আধুনিক বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সুনির্দিষ্ট উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে ইতিহাসের দিকে আলোকপাত করে বলেন, এই চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এখানেই তিনি শাহাদাত বরণ করেছিলেন।
একইভাবে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও এই মাটি থেকেই জনগণের কাছ থেকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধি পেয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে তার এবং তার পরিবারের সম্পর্ক কেবল রাজনীতির নয়, বরং তা আত্মা ও আবেগের এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতাকে ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলন সুরক্ষা দিয়েছে এবং বাংলাদেশের মানুষ যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল, তা বাস্তবায়নে শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অহেতুক সমালোচনার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে তারেক রহমান জনকল্যাণমুখী ও উৎপাদনশীল রাজনীতির ওপর জোর দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কেবল প্রতিপক্ষের সমালোচনা করলে জনগণের ক্ষুধা মিটবে না বা তাদের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হবে না।
বিএনপি অতীতে যখনই ক্ষমতায় ছিল, জনগণের কল্যাণে কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন বৃদ্ধিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন, যার মাধ্যমে প্রান্তিক চাষিরা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন এবং কৃষি উৎপাদন ত্বরান্বিত হবে।
চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনেও তিনি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও খাল-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। সমস্যা সমাধানে তিনি অতীতের মতো খাল খনন কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেন এবং এতে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া, বিএনপি সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেডগুলোর মাধ্যমে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আরও নতুন ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার দলের লক্ষ্য হলো চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা।