সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এ.সি.এম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোট আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
তিনি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, “তরুণ সমাজের প্রথম ভোটটি যেন ইনসাফের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ চিহ্নে হয়। কারণ এই ‘হ্যাঁ’ ভোটই ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশের গ্যারান্টি দেবে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, যারা ‘হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে অবস্থান নেবেন, জনগণ ধরে নেবে তারা পুরোনো ফ্যাসিবাদকেই আবার ফিরিয়ে আনতে চান।
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে দলীয় বিজয়ের চেয়ে জাতীয় বিজয়কে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “আমরা জামায়াতের বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। কোনো একটি দল বা গোষ্ঠীর বিজয় হলে পরে জাতির ওপর তাণ্ডব চালানো হয়, যা আমরা চাই না।”
যুবসমাজের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের যুবকেরা বেকার ভাতা চায় না, তারা সম্মানের কাজ চায়। আমরা ক্ষমতায় গেলে যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতার বদলে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ তুলে দেব।” তিনি আরও যোগ করেন যে, আগামীর বাংলাদেশে ধর্ম বা দল নয়, বরং দক্ষতা ও দেশপ্রেমই হবে সবকিছুর মাপকাঠি।
দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের নায়েবে আমির আনম শামশুল ইসলাম এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিস্টার হামিদ হোসেন আজাদ।
জনসভায় লোহাগাড়া ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের সমর্থনে স্লোগান দেন। বিকেলের দিকে ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও বন্দর স্কুল মাঠে আয়োজিত আরও দুটি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।