বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঝিমিন ছিয়ান নামে এক চীনা নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করেছেন লন্ডনের একটি আদালত। তার কাছ থেকে জব্দ করা ৬১,০০০ বিটকয়েনের বর্তমান বাজারমূল্য ৫ বিলিয়ন পাউন্ডেরও (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা) বেশি।
সোমবার লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে ঝিমিন ছিয়ান অবৈধভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সি অর্জন ও পাচারের দায় স্বীকার করেন।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের (মেট) তথ্য অনুযায়ী, এই মামলার তদন্ত প্রায় সাত বছর ধরে চলছিল। তদন্তে জানা যায়, ঝিমিন ছিয়ান ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে চীনে একটি বড় আকারের বিনিয়োগ প্রতারণা চক্র পরিচালনা করেন। তিনি প্রায় ১ লক্ষ ২৮ হাজারেরও বেশি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে প্রতারণা করে তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং সেই অর্থ বিটকয়েনে রূপান্তর করে পাচারের চেষ্টা করেন।
প্রতারণার পর তিনি ভুয়া নথি ব্যবহার করে চীন থেকে পালিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে আসেন এবং এখানে সম্পত্তি কেনার মাধ্যমে সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ সাদা করার চেষ্টা করেন। লন্ডনে তাকে এই কাজে সহায়তা করেন জিয়ান ওয়েন নামে এক চীনা রেস্তোরাঁ কর্মী, যাকে গত বছর দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশের অর্থনৈতিক ও সাইবার ক্রাইম শাখার প্রধান উইল লাইন বলেন, "এটি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম অর্থ পাচারের ঘটনা।" দীর্ঘ সাত বছরের তদন্ত এবং বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় এই মামলার কিনারা করা সম্ভব হয়েছে।
ঝিমিন ছিয়ানের আইনজীবী জানিয়েছেন, তার মক্কেল দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় প্রতারণার শিকার বিনিয়োগকারীরা এখন তাদের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী হতে পারেন। কারণ, ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ এখন রয়েছে।
বর্তমানে ঝিমিন ছিয়ান পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং শিগগিরই তার সাজা ঘোষণা করা হবে।