সম্প্রতি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নিজের দেশের এই দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন।
চলমান সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর দুই মিত্র দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক ও সরাসরি বৈঠক, যা বর্তমান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে থাকার বিষয়ে বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই সংকটময় পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ওয়াং ই স্পষ্টভাবে বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের জোরালো ও যৌক্তিক আহ্বানে দ্রুত সাড়া দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবিলম্বে নিরাপদ ও স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা উচিত।
বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহের নিরবচ্ছিন্ন স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই প্রণালির ভূকৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। বিদ্যমান সংঘাতের চূড়ান্ত অবসান ঘটাতে বেইজিং মনে করে যে, এই মুহূর্তে একটি দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি।
নতুন করে পুনরায় যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাত শুরু হওয়া কোনোভাবেই কারও জন্য কাম্য নয় এবং তা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য আরও বেশি ধ্বংসাত্মক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করবে বলে তিনি বিশ্বনেতাদের সতর্ক করেন।
বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বেইজিংয়ের সুস্পষ্ট ও গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। চীনের শীর্ষ এই কূটনীতিক জানান, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, চীন সেটিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে।
তবে সামরিক উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও জাতীয় উন্নয়নের কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করার পূর্ণ আইনি অধিকার ইরানের রয়েছে বলে চীন জোরালোভাবে বিশ্বাস করে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও চীনের শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকটি এমন এক স্পর্শকাতর ভূরাজনৈতিক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের খুব শিগগিরই এক রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং যাওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অতি প্রতীক্ষিত সফরের ঠিক প্রাক্কালে ইরানের প্রতি চীনের এমন অকুণ্ঠ সমর্থন এবং অবিলম্বে শান্তি আলোচনার এই কূটনৈতিক তাগিদ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।