শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান, কড়া হুঁশিয়ারি দিল বেইজিং

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম

চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান, কড়া হুঁশিয়ারি দিল বেইজিং
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন ও একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে সম্পূর্ণ বেআইনি আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে চীন।

 

একই সঙ্গে নিজ দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ন্যায্য অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনে অত্যন্ত কঠোর ও সুদৃঢ় পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বেইজিং।

 

সোমবার (২৭ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়, যা দুই বৃহৎ অর্থনৈতিক পরাশক্তির মধ্যকার বিরাজমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে সরকারের এই অনড় ও কঠোর অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

 

তিনি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান যে, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত বাণিজ্যিক নিয়মনীতির ন্যূনতম তোয়াক্কা না করে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে যে একতরফা ও অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগ্রাসী নীতি অনুসরণ করে আসছে, চীন নীতিগতভাবে সবসময়ই তার তীব্র বিরোধিতা করে।

 

বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে এ ধরনের অন্যায্য, নিপীড়নমূলক ও আধিপত্যবাদী আচরণ থেকে দ্রুত সরে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, অন্য কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করার জন্যও মার্কিন প্রশাসনের প্রতি তিনি কড়া ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা দিয়েছেন।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন ও কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) মার্কিন ট্রেজারি বা অর্থ বিভাগ ইরানের বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে নতুন করে একগুচ্ছ কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে চীনের অন্যতম বৃহৎ ও সুপরিচিত জ্বালানি শোধনাগার বা রিফাইনারি প্রতিষ্ঠান ‘হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল’-সহ প্রায় চল্লিশটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।

 

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বিশ্ববাজারে ইরানের অবৈধ ও অননুমোদিত তেল বাণিজ্য কঠোরভাবে রুখতেই কৌশলগত কারণে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

মূলত পূর্ব চীনের শানডং প্রদেশে অবস্থিত স্বতন্ত্র জ্বালানি শোধনাগারগুলোকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু করেই ওয়াশিংটন এই কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বলে জানা গেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ও পদক্ষেপের তীব্র ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান অত্যন্ত কঠোর ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করছে, যা অবাধ বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

 

তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, চীন সরকার কখনোই বিদেশি শক্তির চাপে নিজেদের কোম্পানিগুলোর আইনি অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে দেবে না।

 

উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র যেকোনো ধরনের আইনি, অর্থনৈতিক বা পাল্টা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে।

 

এই পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবস্থানের ফলে আগামী দিনে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাঠামোতে এক নতুন ও গভীর অস্থিরতা তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

- আনাদোলু এজেন্সি