গভীর সমুদ্রে গবেষণায় এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল চীন। দেশটির মনুষ্যবাহী ডুবোযান বা সাবমার্সিবল ‘জিয়াওলং’ এই প্রথম আর্কটিক বা সুমেরু মহাসাগরের বরফের নিচে সফলভাবে ডুব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে। এই সাফল্যকে চীনের মেরু অঞ্চল গবেষণায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‘ওশান ভয়েজ ৯২’ নামের একটি বৈজ্ঞানিক অভিযানের অংশ হিসেবে ‘জিয়াওলং’ সুমেরু মহাসাগরে দশটিরও বেশি সফল মনুষ্যবাহী ডাইভ সম্পন্ন করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই অভিযানের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য এবং ভূতাত্ত্বিক গঠন সম্পর্কে বহু অজানা তথ্য পাওয়া গেছে।
গত ১৫ জুলাই চীনের কিংদাও বন্দর থেকে ‘শেনহাই ইহাও’ নামক একটি গবেষণা জাহাজে করে ‘জিয়াওলং’-কে নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। ‘শুয়েলং ২’ নামের একটি আইসব্রেকার বা বরফভাঙা জাহাজের সহায়তায় সুমেরু মহাসাগরে এই অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়।
এই অভিযানে সমুদ্রের তলদেশের হাই-ডেফিনিশন ছবি এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা আর্কটিক অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের মানচিত্র তৈরি করতে এবং সংরক্ষণ কাজে সহায়তা করবে।
এছাড়া, ডুবোযানটি সমুদ্রের তলদেশে এমন কিছু চিহ্ন খুঁজে পেয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে ওই অঞ্চলে অতীতে ‘কোল্ড সিপ’ বা মিথেন গ্যাসের উদগীরণ ঘটেছিল। এই আবিষ্কার ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসে আর্কটিক অঞ্চলে মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ সম্পর্কে গবেষণার জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
‘জিয়াওলং’-এর এই সফল অভিযান সুমেরু মহাসাগরের দুর্গম পরিবেশে চীনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং গভীর সমুদ্র গবেষণায় তাদের ক্রমবর্ধমান দক্ষতারই প্রমাণ দিল।