শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হংকং বিমানবন্দরে রানওয়েতে ছিটকে কার্গো প্লেন সাগরে, ২ কর্মী নিহত

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৫, ০৫:১০ এএম

হংকং বিমানবন্দরে রানওয়েতে ছিটকে কার্গো প্লেন সাগরে, ২ কর্মী নিহত
ছবি: AP

হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Hong Kong International Airport) অবতরণের সময় একটি পণ্যবাহী বিমান (কার্গো বিমান) বিমানপথ থেকে পিছলে গিয়ে সমুদ্রের মধ্যে আছড়ে পড়ায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। সোমবার (২০ অক্টোবর, ২০২৫) ভোরের দিকে সংঘটিত এই বিপর্যয়ে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বিমানের চারজন ক্রু সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

 

বিমানবন্দর ও স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, তুরস্ক-ভিত্তিক এসিটি এয়ারলাইন্সের (ACT Airlines) দ্বারা পরিচালিত বোয়িং ৭৪৭ মডেলের এই পণ্যবাহী বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে আসছিল। ভোর আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে বিমানটি অবতরণের চেষ্টা করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তর দিকের বিমানপথ (North Runway) থেকে ছিটকে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যায় এবং পার্শ্ববর্তী সমুদ্র প্রাচীরের কাছে জলে আংশিকভাবে ডুবে যায়।

 

দুর্ঘটনার পর পরই শুরু হওয়া উদ্ধার তৎপরতায় দেখা যায়, বিমানটির আছড়ে পড়ার কারণে বিমানবন্দরের একটি ভূমি-পরিচালনকারী যান (airport ground-handling vehicle) জলে পড়ে যায়। ওই যানটিতে থাকা দুজন কর্মী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিমানটির ভেতরে থাকা চারজন ক্রু সদস্যকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

 

বিমানটির ইজারা প্রদানকারী সংস্থা এমিরেটস এয়ারলাইনস (Emirates Airlines) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ফ্লাইট নম্বর ইকে৯৭৮৮ (EK9788) নামের এই উড়ানটি ছিল এসিটি এয়ারলাইন্সের সাথে তাদের একটি 'ওয়েট লিজ' (Wet Lease) চুক্তি। এই চুক্তির অর্থ হলো, বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, ক্রু এবং বীমার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ছিল এসিটি এয়ারলাইন্সের। সংস্থাটি আরও নিশ্চিত করেছে যে, দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে কোনো পণ্য বা কার্গো ছিল না।

 

হংকংয়ের গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি এবং ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটির সামনের অংশ জলের ওপরে দৃশ্যমান হলেও, এর পেছনের লেজের অংশটি (tail section) বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশাল আকারের বিমানটি সমুদ্রের জলে আংশিকভাবে নিমজ্জিত অবস্থায় ছিল।

 

এই দুর্ঘটনার ফলে বিমানবন্দরের উত্তর দিকের বিমানপথটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে বিমানবন্দরের বাকি দুটি বিমানপথ খোলা রাখা হয়, যার ফলে সামগ্রিক বিমান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, যদিও এর ফলে বেশ কিছু ফ্লাইটের সময়সূচিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। লানতাউ দ্বীপের উত্তরে পুনরুদ্ধার করা জমির উপর নির্মিত হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি এশিয়ার অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত এবং এর অবস্থান সমুদ্রের খুব কাছেই।

 

হংকংয়ের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর (Civil Aviation Department) জানিয়েছে, তারা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য এয়ারলাইন্স এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এমিরেটস এয়ারলাইনস এ বছর ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে তাদের কার্গো পরিচালনার জন্য দুটি বোয়িং ৭৪৭ বিমানকে 'ওয়েট লিজ' চুক্তিতে যুক্ত করেছিল, যার মধ্যে দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটিও ছিল। এই দুর্ঘটনার কারণ ও তার প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

 

- Euro News