ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রাক্কালে তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় আরও অধিকতর সতর্ক থাকার পাশাপাশি সুদৃঢ় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে কাজা কালাস উল্লেখ করেন যে, ইউরোপীয় সমাজ ব্যবস্থায় বিভাজন তৈরি এবং কিয়েভকে সহায়তা প্রদান থেকে পশ্চিমা দেশগুলোকে বিরত রাখতে ক্রেমলিন বহুমুখী নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে।
এই ধরনের ক্রমবর্ধমান হুমকি ও আক্রমণ সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর কেবল পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা না করে, বরং যেকোনো সম্ভাব্য হামলা সংঘটিত হওয়ার আগেই তা শক্ত হাতে প্রতিহত করার পূর্বপ্রস্তুতি ও সক্ষমতা অর্জন করা আবশ্যক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ব্রাসেলসের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরা মূলত হাইব্রিড হামলার মতো বহুমুখী হুমকি মোকাবিলায় একটি নতুন জরুরি প্রোটোকল চালুর বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করছেন, যা যেকোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আকস্মিক হুমকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে।
এর পাশাপাশি ইউরোপীয় ভূখণ্ডের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করা, ইউক্রেনকে সামরিক ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে গভীরভাবে আলোচনা করা হচ্ছে।
ইউরোপের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতার মূল্যায়ন করতে গিয়ে কাজা কালাস জানান যে, বিগত সময়গুলোতে প্রতিরক্ষা খাতে সদস্য দেশগুলোর বিনিয়োগ বা অর্থ বরাদ্দ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়ে গেছে।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সেই ঘাটতিগুলো পূরণে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট প্রসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষ সামুদ্রিক অভিযান ‘অপারেশন অ্যাসপাইডিস’-এর কার্যক্রম আরও সুদৃঢ় করতে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।
বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ পাহারায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অন্য কোনো জোটে প্রস্তাবিত যুদ্ধজাহাজগুলোকে সাময়িক সময়ের জন্য এই অভিযানে যুক্ত করা যায় কি না, সে বিষয়েও তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের জোড়া ভূরাজনৈতিক সংকটের মুখে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।