$27$ জন আহত হয়েছেন। এই নৃশংস হামলার আবহেই ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের $1,240$তম দিনে এসে ইউক্রেনকে একদিকে যেমন রাশিয়ার বর্বর হামলা মোকাবেলা করতে হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে মিত্রদের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনেরও সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
দোনেৎস্ক অঞ্চলের গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় যখন ক্রেতাদের ভিড় ছিল, ঠিক সেই সময়ে একটি $500$ কেজি ওজনের বোমা শপিং সেন্টারটির ওপর ফেলা হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে "ভয়াবহ, নির্বোধ রুশ সন্ত্রাস" বলে অভিহিত করে বলেন, "এই হামলার পেছনে কোনো সামরিক যুক্তি নেই, কেবল সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য।" এর আগেও বুধবার ভোরে রাশিয়া , ক্রিভি রিহ, ওডেসাসহ চারটি শহরে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যাতে অন্তত $15$ জন আহত হন।
এই ভয়াবহ হামলার মধ্যেই ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র পাঠানোর ঘোষণা দিয়ে এর কৃতিত্ব নিতে চাইলেও খরচের বোঝা ইউরোপের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইইউ-এর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস স্পষ্টভাবে বলেন, "যদি আমরা এই অস্ত্রের জন্য অর্থ প্রদান করি, তবে এটি আমাদেরই সমর্থন, ইউরোপের সমর্থন... আপনি অস্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যদি বলেন যে অন্য কেউ অর্থ দেবে, তাহলে তা আপনার দেওয়া হয় না।" তিনি ট্রাম্পের ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও এই খরচের বোঝা ভাগ করে নেওয়ার জন্য আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে, বিদেশি সাহায্যের এই জটিলতার মধ্যে ইউক্রেন দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশে ব্যবহৃত অস্ত্রের $50\%$ স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। বর্তমানে এই হার প্রায় $40\%$। একইসঙ্গে, কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আগামী সপ্তাহে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এভাবেই ইউক্রেন একদিকে রাশিয়ার হামলা মোকাবেলা করছে এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
---