প্যারিস প্রসিকিউটরের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তি রয়েছেন, যাকে পুলিশ বেশ কিছুদিন ধরে নজরে রেখেছিল। লর বেকোয়া বলেন, "সে আমাদের দৃষ্টিসীমার মধ্যেই ছিল।" তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ডাকাতি হওয়া প্রায় ৮৮ মিলিয়ন ইউরো (১৫৬.৬ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের কোনো গহনা এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
প্রসিকিউটর বেকোয়া আরও জানান, মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রমাণ এই চুরির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে যে, ১৯ অক্টোবরের সেই দিনের সাহসী ডাকাতি সংঘটনকারী চারজনের দলের মধ্যে সে অন্যতম ছিল। অন্যান্য চারজন সদ্য-গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি সম্পর্কে বেকোয়া বলেন, "যারা পুলিশ হেফাজতে আছেন, তারা ঘটনার গতিপথ সম্পর্কে আমাদের তথ্য দিতে সক্ষম হতে পারেন।"
বুধবার প্যারিস এবং এর আশেপাশে, বিশেষ করে ফ্রান্সের রাজধানীর বাইরের সেন-সেন্ট-ডেনিস অঞ্চলে সমন্বিত অভিযান চালানোর সময় এই পাঁচজনকে আটক করা হয়। নিরাপত্তা ত্রুটি উন্মোচনকারী এই চুরির ঘটনায় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে গত বুধবারই চুরি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই দুজন ব্যক্তি "আংশিকভাবে অভিযোগ স্বীকার করেছেন।"
গত ১৯ অক্টোবর সকালে চারজন মুখোশধারী চোর বিশ্বের সবচেয়ে বেশিবার পরিদর্শিত এই জাদুঘরের নিরাপত্তা দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ল্যুভরে প্রবেশ করে এবং রাজকীয় রত্নগুলো নিয়ে পালিয়ে যায়। গোয়েন্দাদের তথ্যানুযায়ী, চোরেরা একটি চুরি যাওয়া মুভার্স ট্রাকের বর্ধনযোগ্য মই (Extendable Ladder) ব্যবহার করে প্রবেশ করে এবং কাটার সরঞ্জাম ব্যবহার করে অ্যাপোলো গ্যালারিতে প্রবেশ করে, যেখানে রাজকীয় গহনাগুলো রাখা ছিল। এরপর তারা মোটরসাইকেলে করে আটটি মূল্যবান গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়।
লুণ্ঠিত গহনাগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি পান্না ও হীরার নেকলেস, যা সম্রাট নেপোলিয়ন প্রথম তার স্ত্রী সম্রাজ্ঞী মেরি-লুইসকে উপহার দিয়েছিলেন, এবং একটি ডায়মন্ড খচিত শিরোভূষণ (Diadem), যা একসময় সম্রাজ্ঞী ইউজেনির ছিল এবং এতে প্রায় ২,০০০ হীরা লাগানো রয়েছে।
আগের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া দুজন ব্যক্তির বয়স ৩০-এর কোঠায় এবং তাদের অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে আলজেরিয়াগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টার সময় গ্রেপ্তার করা হয়। প্রসিকিউটর বেকোয়া রেডিও স্টেশন আরটিএলকে বলেন, "সেই মুহূর্তে আমাদের অবশ্যই গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে হয়েছিল।"
বেকোয়া আগেই বলেছিলেন যে, এই চুরির পিছনে চারজনের দল থাকলেও, একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য জড়িত থাকার বিষয়টি তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না, যার মধ্যে একজন ব্যক্তি এই চুরির নির্দেশদাতা এবং মূল পরিকল্পনাকারী হতে পারেন। তদন্তকারীরা এখন সেই বৃহত্তর চক্রের সন্ধানে মনোনিবেশ করেছেন।