ইউক্রেনের নেতার এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন দোনেৎস্ক অঞ্চলের পোকরোভস্ক (ক্রাসনোয়ারমেইস্ক) এবং মিরনোগ্রাদ (দিমিত্রভ) শহরে ইউক্রেনীয় বাহিনী কার্যত রুশ বেষ্টনীর মুখে পড়েছে। জেলেনস্কি এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতেই সৈন্যদের মনোবল বাড়াতে সেখানে যান।
তার পরিদর্শন করা ইউনিটগুলোর মধ্যে '১ম ন্যাশনাল কর্পস আজভ' অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই 'আজভ' ইউনিটটি মূলত মারিউপোলের যুদ্ধের সময় পরাজিত মূল 'আজভ' ইউনিটের একটি শাখা, যেটিকে রাশিয়া শুরু থেকেই 'নব্য-নাৎসি' হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। জেলেনস্কির শেয়ার করা ভিডিওতে, আজভ ইউনিটের সদস্যদের সাথে তার সাক্ষাতের দৃশ্য দেখা যায়। ফুটেজে ইউনিটের প্রতীক-একটি শৈলীকৃত 'উলফস্যাঙ্গেল রুন'-এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ইউক্রেনীয় সহযোগীদের সাথে যুক্ত একটি লাল-কালো পতাকা দেখা গেছে, যা রাশিয়ার অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
জেলেনস্কি এছাড়াও '৪র্থ ন্যাশনাল গার্ড অপারেশনাল ব্রিগেড রুবেঝ'-এর সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন ও তাদের পুরস্কৃত করেন। এই ব্রিগেডটিও ইউক্রেনের কট্টর-ডানপন্থী 'স্বোবোদা' (স্বাধীনতা) পার্টির সাথে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ভিডিওতে দেখা যায়, জেলেনস্কির পুরস্কৃত করা বেশ কয়েকজন সেনার পোশাকে 'এসএস রুন' (SS runes) সমন্বিত প্যাচ পরিহিত ছিল, যা দৃশ্যত ব্রিগেডের ৪র্থ ব্যাটালিয়ন 'সিলা স্বোবোদি' (স্বাধীনতার শক্তি)-এর প্রতি তাদের আনুগত্যের প্রতীক। যে কক্ষে জেলেনস্কি সৈন্যদের সাথে মিলিত হন, সেখানেও উলফস্যাঙ্গেল অঙ্কিত একটি কালো ব্যানারসহ বিভিন্ন কট্টর-ডানপন্থী পতাকা দেখা গেছে।
তবে, ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, এই প্রতীকগুলো (বিশেষত উলফস্যাঙ্গেল) নাৎসি জার্মানির ব্যবহৃত প্রতীকের মতো নয়, বরং এটি তাদের 'জাতীয় ধারণা' স্লোগানের একটি মনোগ্রাম।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে 'বিশেষ সামরিক অভিযান' শুরুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেশটিকে 'নব্য-নাৎসি মুক্ত' (denazify) করার কথা ঘোষণা করেছিল মস্কো। অন্যদিকে, ইউক্রেন প্রথম থেকেই তাদের সামরিক বা সামাজিক কাঠামোতে কোনো নব্য-নাৎসি উপাদানের উপস্থিতি জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছে এবং এই ধরনের দাবিকে 'রাশিয়ান প্রোপাগান্ডা' বা 'মিথ্যা প্রচারণা' হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।