এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইউরোপীয় পরিবহন ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর যাতায়াতের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। এই চুক্তির আওতায় পনি এআই-এর অত্যাধুনিক 'লেভেল ৪' স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি বোল্টের পরিবহন নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হবে। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, এটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চালক বা মানুষের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে গাড়ি চালনায় ও গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম।
মূলত সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চিনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও কড়াকড়ি আরোপের পর থেকেই তারা ইউরোপের বাজারের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে। বোল্ট ও পনি এআই-এর এই যৌথ উদ্যোগ সেই বাণিজ্যিক সম্প্রসারণেরই একটি অংশ। বোল্টের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্কাস ভিলিগ এই নতুন অংশীদারিত্ব নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, "স্বয়ংক্রিয় যানবাহন ভবিষ্যতে মানুষ ও পণ্য পরিবহনের পুরো ধারণাটিকেই আমূল বদলে দেবে। পনি এআই তাদের প্রযুক্তিকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তাতে তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমরা গর্বিত।" তবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এখনই রাস্তায় যাত্রী পরিবহন শুরু হচ্ছে না। বোল্ট কর্তৃপক্ষের মতে, তারা তাড়াহুড়ো না করে ধাপে ধাপে এগোতে চায়।
প্রাথমিকভাবে বাস্তব পরিস্থিতিতে পরীক্ষামূলক মহড়া বা টেস্ট ড্রাইভ, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যাত্রীদের অভিজ্ঞতার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই পূর্ণাঙ্গভাবে চালকবিহীন সেবা চালু করা হবে। ইউরোপের কোন কোন শহরে এবং কবে নাগাদ এই সেবা চালু হবে, তা নির্দিষ্ট করে না বলা হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোই যে তাদের মূল লক্ষ্য, তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
পনি এআই-এর প্রধান নির্বাহী জেমস পেং ইউরোপকে স্বয়ংক্রিয় যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও দ্রুত বর্ধনশীল বাজার হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে পনি এআই বর্তমানে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। চিনের বেইজিং, গুয়াংজু, সাংহাই এবং শেনজেনে বর্তমানে তাদের সম্পূর্ণ চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি সেবা চালু রয়েছে।
তাদের বিশাল বহরে প্রায় ৭২০টি রোবোট্যাক্সি এবং ২০০টি স্বয়ংক্রিয় ট্রাক রয়েছে, যা এই খাতে তাদের অভিজ্ঞতার প্রমাণ বহন করে। ইউরোপে অত্যন্ত কঠোর ডেটা সুরক্ষা আইন ও নিরাপত্তা মানদণ্ড থাকা সত্ত্বেও চিনা মোবিলিটি কোম্পানিগুলো এই বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া। বোল্ট ছাড়াও গত মাসে উবার এবং চিনা স্টার্টআপ মোমেন্টা জার্মানিতে রোবোট্যাক্সি পরীক্ষার ঘোষণা দিয়েছিল।
এছাড়া লিফট ও চিনা প্রতিষ্ঠান বাইদু মিলে আগামী বছর জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে। ওয়েমো ও ক্রুজের মতো পশ্চিমা কোম্পানিগুলোও এই প্রতিযোগিতায় শামিল হয়েছে। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এই স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির সঠিক ও নিরাপদ বাণিজ্যিকীকরণ সড়কে দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে।