তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইউরোপ মহাদেশ ধীরে ধীরে এই রূঢ় বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে শুরু করেছে যে, ওয়াশিংটনের ওপর আর নিঃশর্তভাবে ভরসা করা সম্ভব নয়। ইউরোনিউজের জনপ্রিয় মর্নিং শো ‘ইউরোপ টুডে’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেনারেল হজেস বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র আসলে ইউরোপকে গুরুত্বহীন বা 'ইনকনসিকোয়েন্সিয়াল' মনে করে, হয়তো কিছু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছাড়া তাদের কাছে ইউরোপের আর কোনো মূল্য নেই।"
তাঁর মতে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের ইউক্রেন সংঘাত মোকাবিলার পদ্ধতিটি শুরু থেকেই ত্রুটিপূর্ণ ছিল, কারণ তারা এই ভয়াবহ যুদ্ধকে একটি বিশাল ‘রিয়েল এস্টেট ডিল’ বা আবাসন ব্যবসার মতো করে দেখছে। হজেস তাঁর দাবির সপক্ষে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওয়াশিংটনের মূল আগ্রহ হলো যুদ্ধ শেষে রাশিয়ার সাথে পুনরায় ব্যবসা শুরু করা।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যদি উইটকফ এবং কুশনারের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাশিয়ার সাথে কোনো সমঝোতা হয়, তবে তা ইউরোপের জন্য বিশাল বিপর্যয় ডেকে আনবে।" তাঁর আশঙ্কা, ইউক্রেনকে যদি কোনো অসম চুক্তিতে বাধ্য করা হয়, তবে ইউরোপকে আরও লাখ লাখ শরণার্থীর ঢল সামলাতে হবে। এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে যখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জেনারেল হজেস বিষয়টিকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান প্রশাসনের অগ্রাধিকার তালিকায় ইউরোপের অবস্থান এখন চার নম্বরে-পশ্চিম গোলার্ধ, ইন্দো-প্যাসিফিক এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরে। এতসব হতাশার মাঝেও জেনারেল হজেস মনে করেন পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। তিনি এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন যে ইউক্রেন যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে।
তাঁর যুক্তি, ১১ বছরের যুদ্ধের পরেও রাশিয়া ইউক্রেনের মাত্র ২০ শতাংশ দখল করতে পেরেছে এবং রাশিয়ার অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, ইউক্রেন এবং ইউরোপের সম্মিলিত শিল্পক্ষমতা, সম্পদ এবং জনবল রাশিয়ার অগ্রযাত্রা থামানোর জন্য যথেষ্ট। তিনি ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ইউক্রেনসহ ইউরোপের পক্ষে রাশিয়াকে থামানো অসম্ভব নয়। তাদের শুধু প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা।"